
///স্টাফ রিপোর্টার,// কুষ্টিয়া
মোঃ হারুনুর রশীদ চৌধুরী //
শ্রেণিকক্ষে শাসন করায় এক শিক্ষককে রাস্তায় মোটরসাইকেল থামিয়ে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এতে ওই শিক্ষকের থুতনিতে ৮টি সেলাই দিতে হয়েছে এবং ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
আহত শিক্ষকের নাম রায়হান ইসলাম। তিনি বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে স্কুল ছুটির পর শিক্ষক রায়হান ইসলাম মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাসায় ফিরছিলেন। বিয়াম মডেল স্কুল পার হয়ে এপিবিএন ফটকের সামনে পৌঁছালে পূর্বে থেকে গাছের ডাল হাতে অবস্থান নেওয়া ওই সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাঁর পথ রোধ করে। শিক্ষক মোটরসাইকেল থামা মাত্রই ওই শিক্ষার্থী গাছের ডাল দিয়ে তাঁর মুখ ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা শুরু করে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় ও সহকর্মীদের সহায়তায় আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, আঘাতের তীব্রতায় তাঁর থুতনিতে আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন ও বিশ্রামে রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “শিক্ষকের ওপর আক্রমণের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধের অভাব এবং কিশোর অপরাধমূলক আচরণ বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা কেবল একটি একক অপরাধ নয়; বরং এটি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ও কিশোরদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতারই বহিঃপ্রকাশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন:
শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, রাগ নিয়ন্ত্রণ ও জ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের পাঠ পরিবার থেকেই শুরু হতে হবে।
শিক্ষকের শাসন অবশ্যই যুক্তিসংগত ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া উচিত। অন্যদিকে, কোনো শাসনের বিষয়ে শিক্ষার্থীর আপত্তি বা অসন্তোষ থাকলে তা প্রকাশের প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুসরণ করা আবশ্যক, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নয়।
অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি কিশোর অপরাধীর সংশোধনমূলক ব্যবস্থার প্রতিও জোর দেওয়া প্রয়োজন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হবে এবং আইনগত নিয়ম মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply