
সি,ও::
তারকাখ্যাতি কি মানুষকে এতটাই ক্ষমতাধর করে তোলে যে, সংবাদকর্মীদের প্রকাশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় সমকামিতা নারীদের ভাষায় গালিগালাজ করাও স্বাভাবিক হয়ে যায়? আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার এবং ব্যক্তিগত পরিচয়হীন নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কিতে সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে বিতর্কিত চিত্রনায়িকা পরীমণি।
গত ৫ নভেম্বর ঢাকার আদালতে একটি মামলায় জামিন নিতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যে আচরণ দেখা গেছে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে ঢাকা প্রেসক্লাবসহ চারটি সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ঘটনার ভিডিওচিত্রেও সাংবাদিকদের উদ্দেশে তাঁর উত্তপ্ত ও অশালীন আচরণ দৃশ্যমান বলে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমকালের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক রবিউল ইসলাম রাজুকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত অসামাজিক নিরাপত্তাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কিতে একাধিক সাংবাদিক আহত হয়েছেন ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে।
জাগো নিউজের দুই সাংবাদিক আহত হওয়ার পাশাপাশি একজন বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
অতীতের বিতর্কও কি ভুলে যাওয়ার সুযোগ আছে?
২০২১ সালের বোট ক্লাবকাণ্ড, ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, মাদক মামলায় গ্রেপ্তার এবং ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর ও ভাঙচুরের মামলা—বিভিন্ন সময়ে পরীমণিকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক ও আইনি ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
এসব ঘটনায় অভিযোগ ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান বিষয়গুলোকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ দেখতে চায় না। তবে একজন বিতর্কিত ব্যক্তির প্রকাশ্য আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার গণমাধ্যমের রয়েছে।
একজন সাংবাদিক ছবি তুলবেন, ভিডিও করবেন, প্রশ্ন করবেন—এটাই তাঁর পেশাগত দায়িত্ব। কোনো প্রশ্ন অপছন্দ হলে উত্তর না দেওয়ার অধিকার পরীমণির রয়েছে। কিন্তু অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি কিংবা সাংবাদিকের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজন সাংবাদিক ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ধাক্কাধাক্কি করে আহত করার বিষয়টি।
প্রশ্ন হচ্ছে, এসব নিরাপত্তাকর্মী কারা? তাঁদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কোনটি? আদালত প্রাঙ্গণে তাঁদের ভূমিকার সীমা কতটুকু?
উক্ত ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আরঙ্গজেব কামাল, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম এবং ইয়ুথ জার্নাল।
সংগঠনগুলো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
অর্থাৎ বিষয়টি এখন আর কেবল কয়েকজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সাংবাদিকদের সাংগঠনিক প্রতিবাদের বিষয়েও পরিণত হয়েছে।
আমাদের দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদের স্পষ্ট বক্তব্য
পরীমণি, তোমার মত বিতর্কিত নারীর জনপ্রিয়তা থাকতে পারে,ভক্ত থাকতে পারে, তোমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রয়োজনও থাকতে পারে। কিন্তু সংবাদকর্মীদের সম্মানহানি করার অধিকার তোমার নেই।
সাংবাদিকরা তোমার ব্যক্তিগত শত্রু নন। তাঁরা জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করেন।
তুমি যদি মনে করো কোনো সাংবাদিক অন্যায় করেছেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেও কিন্তু প্রকাশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, হত্যার হুমকি এবং নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে ধাক্কাধাক্কির জবাব তোমাকেই দিতে হবে।
আমাদে সকল গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা তোমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ পোষণ করে না। কিন্তু গণমাধ্যমের মর্যাদা নিয়ে আপস করারও কোনো সুযোগ নেই দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদের।
সর্বশেষে সরকারের কাছে আমাদের দাবি—ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, আহত সাংবাদিকরা ন্যায়বিচার পান, নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক এবং ভবিষ্যতে কোনো তারকাই যেন নিজের জনপ্রিয়তার দোহাই দিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদাকে অবজ্ঞা করতে না পারেন।
Leave a Reply