
হুমায়ুন মৃধা:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। দিন-রাত অবাধে ইলিশ শিকার করে উপজেলার বিভিন্ন মাছঘাটে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, গঙ্গাপুর ইউনিয়নের জয়া বেড়িবাঁধের মাথা, জয়ার খাল ও নয়নের খাল মাছঘাটে চলছে নিষিদ্ধ ইলিশের বেচাকেনা। এ ছাড়া বড়মানিকা ইউনিয়নের এছাকমোড় মাছঘাট, আলিমুদ্দিন বাংলা বাজার, পক্ষিয়া ইউনিয়নের নবমিয়ার হাট, দিদার মাঝি মাছঘাট, হাকিমুদ্দিন ও মির্জাকালু মাছঘাটেও ইলিশ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, হাকিমুদ্দিন নৌপুলিশ ফাঁড়ির মাত্র ২০০ গজের মধ্যেও প্রকাশ্যে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গতকাল রাতে ও আজ সোমবার রাত ১০টার দিকে মাছ বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।
সরকারের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ২২ দিন মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ। এরপরও এসব কর্মকাণ্ড চলতে থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী চক্র এ অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা, যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন চলতে থাকলে দেশের ইলিশের উৎপাদন হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা সচেতন মহলের।
সচেতন মহলের দাবি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে অভিযুক্ত মাছঘাট ও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে দিন-রাত অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ ইলিশ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও যদি প্রকাশ্যে মা ইলিশ বিক্রি চলে, তাহলে তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?
Leave a Reply