
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ
মৌলভীবাজার সদরের আদর্শ গ্রামের ভুক্তভোগী সজ্ঞব খাঁন মুকিদের ৯৯ বছরের লিজকৃত ৭০ শতক খাস জমির দখল পুনরুদ্ধারের তদন্তে বৈধতা পাওয়ার পরও আর.এস হালনাগাদের ফাইল উপজেলা ভূমি অফিসে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া যায় উপজেলা ভূমি অফিস, মৌলভীবাজার সদরের স্মারক নং- ৩১.৬০.৫৮৭৪.০০১.০৫.০০৩.২৫-০৬, তারিখ: ০১/০১/২০২৩ এর তদন্ত প্রতিবেদনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুৎফুন নাহার শারমীন (পরিচিতি নং-১৯০৫৭) নিজেই ভুক্তভোগীর বৈধতা স্বীকার করেছেন।
প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৯৩১ নং স্মারক (১৭/০৮/২০২৫) এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিস শমসেরগঞ্জের ২১৪ নং স্মারক (০৯/০৯/২০২৫) এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা ও সরজমিন তদন্তে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। বিবাদীপক্ষকে নোটিশ করা হলেও শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় উভয়পক্ষের মতামত শোনা যায়নি।
সার্বিক পর্যালোচনায় তিনি লিখেছেন, আবেদনকারীর পিতা ও মাতার নামে ৪৫/৯১ ও ৪৩/৯০-৯১ নং বন্দোবস্ত মোকদ্দমায় ১৯২৯ নং জেএলভুক্ত পাট অব দিনারপুর হিলস মৌজার ১০৯ নং দাগে ০.৭০ একর ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়। নামজারী মোকদ্দমা নং ২২৪/৯৭-৯৮ বলে ১০৫নং নামজারী খতিয়ানে ১০৯/৯ নং দাগে টিনা রকম ০.৭০ একর ভূমি আবেদনকারীর পিতা সদর মিয়া ও মাতা সুনেছা বিবির নামে এসএ রেকর্ডে রেকর্ড সৃজন হয়।
তিনি আরও লেখেন, আবেদনকারীর মাতা-পিতা আবেদিত ভূমি দখল প্রাপ্ত হয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু পিতার অসুস্থতার জন্য অন্যত্র থাকলে এবং পরবর্তীতে পিতার মৃত্যুর পর বাড়িতে গেলে বিবাদী ১। সাত্তানুর মিয়া পিং মৃত রুস্তম উল্লা ২। মোঃ আনিস পিং সাত্তানুর মিয়া সাং বিনীগ্রাম বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করেন। আরএস জরিপে আবেদিত ভূমি ১নং খতিয়ানে রেকর্ড সৃজন হয়েছে।
প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়, “যেহেতু আরএস জরিপে নালিশী জমি ০১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত তাই আবেদনকারীকে সর্বশেষ রেকর্ড হালনাগাদের জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, AC Land আর.এস হালনাগাদের পরামর্শ দিলেও সেই হালনাগাদের মূল ভিত্তি শমসেরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদারের ১৪৩ নং স্মারক ২৩.০৮.২০২৬ এর ফাইলটি আজও উপজেলা সদর ভূমি অফিসের টেবিলে আটকা পড়ে আছে। জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়নি। ফলে বৈধ লিজের জমি থেকেও উচ্ছেদ হচ্ছেন ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দ্রুত ১৪৩ নং স্মারকের ফাইল তলব করে প্রকাশ ও ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ধারা মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply