
মোঃ বেলাল হোসেন
গ্রামে যখন গভীর রাতে একজন শিশু জ্বরে কাঁপে, একজন মা প্রসব বেদনায় ছটফট করেন, কিংবা একজন বৃদ্ধ কৃষক বুকে ব্যথা নিয়ে দিশেহারা হন — তখন শহরের বড় ডাক্তারের চেয়ে সবচেয়ে কাছে যাকে পাওয়া যায়, তিনি হলেন পল্লী চিকিৎসক। তেমনি একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ পল্লী চিকিৎসক আবদুর রহমান।
তিনি শুধু একজন ঔষধ বিক্রেতা নন, তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যের বন্ধু। তার প্রতিষ্ঠিত *লায়লা ফার্মেসি মেডিকেল কেয়ার* আজ কেবল একটি ফার্মেসি নয়, এটি একটি ভরসার কেন্দ্র। যার মূলমন্ত্র — *”আপনার সুস্থতাই আমাদের অঙ্গীকার”* — কথাটি তিনি শুধু দেয়ালে লিখে রাখেননি, কাজে প্রমাণ করেছেন।
লায়লা ফার্মেসিতে গেলে যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও আধুনিকতা। সারি সারি তাকে সাজানো বিশ্বস্ত ও মানসম্মত ঔষধ, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ বিক্রয়, এবং রোগীদের প্রতি আন্তরিক ব্যবহার — এই তিনের সমন্বয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি ব্যতিক্রমী সেবা প্রতিষ্ঠান। এখানে ঔষধ বিক্রির পাশাপাশি মেলে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, কাটা-ছেঁড়া সেলাই, ব্যান্ডেজ ও হাড় জোড়া প্লাস্টার, সঠিক পরামর্শ এবং সবার জন্য সেরা সেবা দেওয়ার মানসিকতা।
সম্প্রতি সেবা নিতে আসা রোগী মো. জসিম উদ্দিন (৫৫) বলেন, “গত মাসে আমার বাচ্চার হঠাৎ অনেক জ্বর উঠে। রাত ১১টার সময় আবদুর রহমান ভাইকে ফোন দিছি। উনি দোকান বন্ধ করে দিয়েও আমার বাড়িতে গিয়ে বাচ্চাকে দেখে ঔষধ দিয়ে আসছেন। টাকা-পয়সার কথাও বলেন নাই। এমন মানুষ এখন পাওয়া যায় না। লায়লা ফার্মেসি থাকায় আমরা নিশ্চিন্তে থাকি।”
আরেকজন নিয়মিত সেবা গ্রহীতা রহিমা বেগম (৪০) বলেন, “আমার হাত কেটে গেছিলো, সেলাই লাগবে শুনে ভয় পাইছিলাম। রহমান ভাই খুব যত্ন করে সেলাই ও ব্যান্ডেজ করে দিছেন। শহরে যাওয়া লাগে নাই। তার ব্যবহারে আমরা মুগ্ধ।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাছির উদ্দিন বলেন, “আবদুর রহমান শুধু ফার্মেসি চালায় না, সে আমাদের এলাকার গর্ব। রাত-বিরাত, ঝড়-বৃষ্টি যাই হোক, ডাকলেই তাকে পাওয়া যায়। তার মতো মানবিক মানুষের জন্যই গ্রামের মানুষ এখনো প্রাথমিক চিকিৎসায় ভরসা পায়।”
পল্লী চিকিৎসক আবদুর রহমানের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তার মানবিকতা। অনেক সময় দেখা যায়, টাকা নেই বলে অনেক দরিদ্র মানুষ ঔষধ না নিয়ে ফিরে যায়। কিন্তু লায়লা ফার্মেসিতে সেই চিত্র ভিন্ন। তিনি মানুষকে আগে সুস্থ করার কথা ভাবেন, ব্যবসার কথা পরে।
এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক আবদুর রহমান বলেন, “আমি ব্যবসা করার জন্য ফার্মেসি দেই নাই। আমার উদ্দেশ্য হলো মানুষের সেবা করা। গ্রামের অসহায় মানুষ যখন শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারে না, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমার কাজ। আমি কাটা-ছেঁড়া সেলাই, ব্যান্ডেজ ও হাড় জোড়া প্লাস্টার সহ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চেষ্টা করি মানুষকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে। আপনারা দোয়া করবেন, যেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের সেবা করে যেতে পারি। এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।”
আজ যখন ভেজাল ঔষধ ও অপচিকিৎসায় মানুষ প্রতারিত হচ্ছে, তখন আবদুর রহমানের মতো সৎ ও সেবাপরায়ণ পল্লী চিকিৎসকরা আমাদের সমাজে আলোর দিশারি। তারা প্রমাণ করেন — ডিগ্রি বড় নয়, সেবার মনটাই সবচেয়ে বড়।
আমরা আশা করি, লায়লা ফার্মেসি মেডিকেল কেয়ার তার এই সুনাম ও সেবার ধারা অব্যাহত রাখবে এবং পটিয়ার মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
লেখক: মোঃ বেলাল হোসেন সাংবাদিক দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ।
Leave a Reply