
মোঃ সোহেল রানা (বরগুনা)
বরগুনার বেতাগী উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের নানা ধরনের জটিলতায় পড়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ভবনে বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি রাখায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিশেষ করে আবহাওয়াজনিত সাধারণ রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের জটিল ও মরণব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে একই ছাদের নিচে থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
রোগী ও স্বজনরা বলেন , হাসপাতালে বিভিন্ন রোগের জন্য পৃথক কক্ষ বা পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে নতুন করে সংক্রমণের আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও দীর্ঘদিন ধরে একটি দুইতলা ভবনেই হাসপাতালের অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। হাসপাতালের পরিধি ও রোগীর চাপের তুলনায় বিদ্যমান অবকাঠামো পর্যাপ্ত নয় বলেও দাবি তাদের।
হাসপাতালের পাশে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজের তেমন অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। ফলে কবে নাগাদ নতুন অবকাঠামো চালু হবে এবং রোগীরা উন্নত পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পাবেন—তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পূর্বের ঠিকাদাররা অর্থসংকটের কারণে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। পরবর্তীতে ভবনটি পুনর্নির্মাণের জন্য সরকার নতুন করে রিটেন্ডার দিয়েছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পর কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, হাসপাতালের খাবারের মান নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন। তাদের দাবি, চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করাও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
রোগী ও স্বজনদের প্রত্যাশা, দ্রুত পৃথক রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় কক্ষ ও আইসোলেশন সুবিধা নিশ্চিত করা, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দৃশ্যমানভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং রোগীদের খাবারের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
Leave a Reply