
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
সেবা পাওয়ার আকুতি নিয়ে লাইনে দাঁড়ানো অসুস্থ মানুষের দীর্ঘশ্বাস,পদে পদে হয়রানি,আর অর্থের বিনিময়ে সব নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানোর চিরচেনা চিত্র যেন আবারও ফুটে উঠল কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে।
তবে এবার আর সাধারণ কেউ নন,রোগীর বেশে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার থেকে ওয়ার্ডে ঘুরে অনিয়মের আদ্যোপান্ত নিজ চোখে দেখে গেলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সুরাইয়া সুলতানার নেতৃত্বে একটি চার সদস্যের এনফোর্সমেন্ট টিম হানা দেয় এই হাসপাতালে।
অভিযানের গোপনীয়তা এমন একপর্যায়ে ছিল যে,স্বয়ং অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারাও গাড়িতে ওঠার আগমুহূর্ত পর্যন্ত জানতেন না তাদের গন্তব্য কোথায়।
পূর্বঘোষণা ছাড়াই চলা প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই আকস্মিক অভিযানে বেরিয়ে আসে হাসপাতালের ভেতরের চিত্র। অভিযানের শুরুতেই দুদকের দুই সদস্য সাধারণ রোগীর ছদ্মবেশে হাসপাতালের বিভিন্ন কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ান এবং চিকিৎসাসেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দেখতে পান,নিয়ম ও সিরিয়ালকে পাশ কাটিয়ে কেবল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই কীভাবে আগেভাগে সেবা বা সিরিয়াল বাগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রোগী সেজে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পর দুদকের মূল টিম একে একে পরিদর্শন করে হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক, জরুরি বিভাগ,প্যাথলজি,আল্ট্রাসনোগ্রাফি,অপারেশন থিয়েটার (ওটি),করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) এবং রান্নাঘরসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর ইউনিট।
এ সময় তারা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের মুখোমুখি হয়ে নানা অভিযোগের কথা শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক নথিপত্র যাচাই-বাছাই করেন।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দুদকের উপসহকারী পরিচালক সুরাইয়া সুলতানা। এ সময় তিনি জানান,অভিযানে পাওয়া নানা অনিয়মের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ টাকার বিনিময়ে মৃত্যুসনদ প্রদান।
এ ছাড়া তিনি জানিয়েছেন নার্সদের দুর্ব্যবহার,রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়ম,প্যাথলজিক্যাল সেবায় অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মেলার কথা।
তিনি বলেন,আজকের এই অভিযানে সংগৃহীত সব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত যুক্ত করে খুব দ্রুতই কমিশন বরাবর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে,হঠাৎ এই আকস্মিক অভিযানের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,দুদক হঠাৎ করেই অভিযান পরিচালনা করেছে।
তবে এখন পর্যন্ত আমাদের সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ বা প্রতিবেদন পেলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
Leave a Reply