
মোঃ আব্দুর রহমান :দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ :
দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন—এমন অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। হাসপাতালে গিয়ে রোগীরা যেন চিকিৎসা নয়, বরং এক অদৃশ্য দুর্ভোগের চক্রে আটকে পড়ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সামান্য জ্বর, হাত বা পায়ের ব্যথার মতো সাধারণ সমস্যার জন্য গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রোগীদের হাতে একাধিক পরীক্ষার তালিকা ধরিয়ে দেন। এসব পরীক্ষা প্রায়ই সরকারি হাসপাতালে না করে নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ক্লিনিকে করাতে বাধ্য করা হয়, যেখানে খরচ বহন করা দরিদ্র মানুষের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর।
এছাড়াও, সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, ওষুধ না থাকার অজুহাতে বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়, যা তাদের আর্থিক দুরবস্থাকে আরও গভীর করে।
রোগীদের আরেকটি বড় অভিযোগ হলো—হাসপাতালে সিট সংকট। কৃষক, শ্রমিক ও জেলেদের মতো দিনমজুর শ্রেণির মানুষ চিকিৎসার জন্য গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও একটি বেড পান না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই অপর্যাপ্ত চিকিৎসা নিয়েই বাড়ি ফিরে যান।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভোলা জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন বলেন, “অসহায় জনগোষ্ঠী হাসপাতালে গিয়ে ন্যূনতম চিকিৎসাটুকুও পাচ্ছে না। সিট নেই, ওষুধ নেই, আর পরীক্ষার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দালালচক্রের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি মানবিক সংকট।”
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি ও অসহায় দরিদ্র মানুষের সংগঠন শ্রমিক পার্টির নেতৃবৃন্দ মনে করছে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়মিত তদারকি ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এই অনিয়ম ও দুর্নীতি উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা—সরকারি হাসপাতাল সত্যিকার অর্থেই জনগণের সেবার স্থান হয়ে উঠবে, যেখানে চিকিৎসা পাবে সকল শ্রেণির মানুষ সমানভাবে।
Leave a Reply