1. mh01610093622@gmail.com : dainikdakshineroporadh :
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
সংবাদ শিরোনাম:

প্রসূতির পেটে গজ-প্যাড রেখে সেলাই, অতঃপর…

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৪৩ বার ভিউ

( ছবিটি সংগ্রহীত )

খুলনা জেলা প্রতিনিধি
মোঃ শাহিন হাওলাদার

ঠাকুরগাঁও আড়াই শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় এক প্রসূতির শরীরে গজ-প্যাড রেখে সেলাই করে রিলিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে। তবে এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে নার্স ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার অভিযুক্ত চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বুধবার (২০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহা. ফিরোজ জামাম।

ভুক্তভোগী সাথী আক্তার ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের নিশ্চিন্তপুর এলাকার মো. আবুজর গিফারীর স্ত্রী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই মধ্যরাতে সাথী আক্তারের প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে রাতে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করান তার স্বামী আবুজর গিফারী। কিছুক্ষণ পর নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে তিনি সন্তান প্রসব করেন। এ সময় সাথী আক্তারের এক সাইড অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষে নার্সরা ভেতরে গজ ও একটি প্যাড রেখে সেলাই করে দেন। পরদিন জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আইরিশ রহমান সাথী আক্তারকে ছাড়পত্র দেন। এরপর গত ১৭ আগস্ট রোগীর প্রচণ্ড ব্যথা উঠলে আবারও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বেড রেস্ট দেন।

পরে রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে গেলে চিকিৎসক ডাকার জন্য নার্সদের বলা হলে তারা এতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন এখন ডাক্তারের রাউন্ড শেষ হয়ে গেছে তাই তিনি আর কোনো রোগী দেখবেন না। পরদিন চিকিৎসক আসলে তখন দেখানো হবে।

এ সময় কর্তব্যরত নার্সরা বলেন, রোগীর বেশি সমস্যা হলে বাইরে প্রাইভেটভাবে চিকিৎসা করান। এরপর রোগীর স্বজনরা ডা. জিন্নাত পারভীনের কাছে নিয়ে গেলে তিনি অবজারভেশনে রাখেন এবং রোগীর প্রসাবের রাস্তা থেকে একটি সম্পূর্ণ প্যাড (স্যানিটারি ন্যাপকিন) বের করেন।
এ বিষয়ে রোগীর স্বামী আবুজর গিফারী অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী ব্যথা অনুভব করলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানকার নার্স ও চিকিৎসকদের কাছে ভালো সেবা না পেয়ে ডা. জিন্নাত পারভীনের কাছে যাই। তিনি আমার স্ত্রীকে ভালোভাবে চেকআপ করে গজ ও একটি প্যাড বের করেন। এটা যদি আরও কিছুদিন ভেতরে থাকতো তাহলে আমার স্ত্রীকে বাঁচানো যেত না।

তিনি আরও বলেন, ডা. আইরিশ রহমান কীভাবে একজন রোগীকে ভালোভাবে না দেখে রিলিজ দিলেন? অবশ্যই তার গাফিলতি রয়েছে। এর আগেও ওই চিকিৎসকের নামে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। তারপরও কেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। শুধু চিকিৎসক নন, হাসপাতালের নার্সদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে, তারা ঠিকমতো রোগীদের সেবা করেন না। আমি ওই চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। আশা করি তত্ত্বাবধায়ক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

তবে এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আইরিশ রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহা. ফিরোজ জামাম বলেন, রোগীর স্বজনরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি কোনো গাফিলতি পাওয়া যায়, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com