
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:
সরকারি রাজস্ব পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে কাঠ পরিবহন করেও রেহাই পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। কুমিল্লা জেলা বন বিভাগের সোহাগ গাজীর চেকপোস্টে টিভি চেকিংয়ের নামে কাঠবোঝাই প্রতিটি গাড়ি থেকে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী কাঠ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাঠ নামানো, পরিমাপ ও কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে গাড়ি দীর্ঘ সময় আটকে রেখে হয়রানি করা হয়। তাঁদের দাবি, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গাড়ি থেকে এভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এমনকি কিছু গাড়ির ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ঘুষের কাছে কি জিম্মি বৈধ কাঠ ব্যবসায়ীরা?
সরকারি নিয়ম মেনে ব্যবসা করার পরও যদি অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়, তবে সেই অর্থ কোন আইনে আদায় করা হচ্ছে? সরকারি চেকপোস্ট কি রাজস্ব আদায়ের কেন্দ্র, নাকি অনিয়মের আখড়া—এ প্রশ্ন এখন ভুক্তভোগীদের মুখে মুখে।
ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান বাস্তবে কতটা কার্যকর, এ ঘটনায় সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ঘুষ কোনো নিয়ম নয়, কোনো সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আয়ের উৎসও নয়। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক, তাই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে নীরবতা নয়—প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা।
এদিকে উক্ত অভিযোগের বিষয় নিয়ে একাধিকবার কুমিল্লা জেলা বন কর্মকর্তাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নাই।
(বিস্তারিত দ্বিতীয় পর্বে)
Leave a Reply