
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারে ৯৯ বছরের লিজের জমির ফাইল আটকে রাখার অভিযোগের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসলো জেলা প্রশাসন। ভুক্তভোগী নিজে জনপ্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের আবেদনের অনুলিপি জেলা প্রশাসককে নিজ হাতে দেওয়ার পর ডিসির পক্ষ থেকে RDC কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা মো: সজ্ঞব খান মুকিদ, পিতা- মৃত সদর খান এর পিতার নামে সরকারের নিকট হইতে ৯৯ বছরের লিজকৃত খাস জমি রয়েছে। খতিয়ান-১, দাগ- ৩৩, ১২, জেএল নং- ৯৫, পরিমাণ- ৭০ শতক। জমা রেকর্ডে ভুল থাকায় হালনাগাদের জন্য তিনি ২৭.০৭.২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন।
তার লিজকৃত জমি প্রতিপক্ষ ১। সাত্তানুর মিয়া, পিতা- রুস্তম উল্লা ২। আনিস মিয়া, পিতা- সাত্তানুর মিয়া জোরপূর্বক দখল করিয়া পাকা স্থাপনা নির্মাণ করিতেছে। ইহাতে তিনি ১০.০৮.২০২৫ তারিখে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৮ ধারা মোতাবেক জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসক স্মারক নং-১৯৩১, তারিখ: ১৭.০৮.২০২৫ মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), মৌলভীবাজার সদরকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুস্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করেন।
কিন্তু ১ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত হইলেও উপজেলা প্রশাসন উক্ত নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করিয়া নীরব ভূমিকা পালন করিতেছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে প্রতিপক্ষ উনার লিজকৃত জমিতে পাকা ঘর নির্মাণ সম্পন্ন করিয়াছে।
এদিকে ভুক্তভোগীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শমসেরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার সরজমিন তদন্ত করিয়া ২৩.০৮.২০২৬ তারিখে ১৪৩ নং স্মারকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেই প্রতিবেদন গোপন করিয়া আটকে রাখিয়াছেন বলিয়া অভিযোগ উঠিয়াছে।
দীর্ঘ ৯ মাস পর সহকারী কমিশনার (ভূমি), মৌলভীবাজার সদর স্মারক নং-৩১.৬০.৫৮৭৪.০১.০৫.০০৩.২৫-০৩, তারিখ: ০১/০১/২০২৩ মোতাবেক দায়সারা তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। উক্ত রিপোর্টে তিনি স্বীকার করেন যে “বিবাদী ১। সাত্তানুর মিয়া ও ২। আনিস মিয়া বাড়ীতে প্রবেশ করিতে বাধা প্রদান করেন”। অথচ ভূমি অপরাধ আইন ২০২৩ মোতাবেক ব্যবস্থা না নিয়া শুধু “আগে জমা রেকর্ড হালনাগাদ না হইলে জায়গা বুঝাইয়া দেওয়া যাইবে না” মর্মে দায়িত্ব এড়াইয়াছেন।
প্রতিকার না পাইয়া ভুক্তভোগী স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করিলে মন্ত্রণালয় হইতে অনুলিপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। ভুক্তভোগী নিজে সেই অনুলিপি জেলা প্রশাসককে নিজ হাতে প্রদান করেন।
মন্ত্রণালয়ের অনুলিপির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের RDC শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেল (পরিচিতি নম্বর- ১৬৪৭৫) নিজ হাতে লিখিত নির্দেশে উল্লেখ করেন:
RDC – আবেদনকারীর বক্তব্য শুনে প্রেরিত AC(L) এর সাথে কথা বলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
এই নির্দেশের ফলে এখন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক তহসিলদারের ১৪৩ নং স্মারকের রিপোর্ট আটকে রাখার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসছে। ভুক্তভোগীর দাবি, তহসিলদারের ১৪৩ নং স্মারকের মূল প্রতিবেদনটি তলব করে জনসম্মুখে প্রকাশ, জেলা প্রশাসকের ১৯৩১ নং স্মারকের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ৯৯ বছরের লিজকৃত খাস জমির জমা রেকর্ড দ্রুত হালনাগাদ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হোক।
Leave a Reply