
রেশমা চৌধুরী, ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এর মধ্যে স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায় রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, ভোলা জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন চকেট।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মদনপুর ইউনিয়নের মানুষের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক প্রয়োজনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করে আসছেন জামাল উদ্দিন চকেট। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সময়ে অর্থ ও শ্রম দিয়ে হাজার হাজার মানুষ সহযোগিতা করেছেন বলে তার সমর্থকদের দাবি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কালভার্ট, শিশুদের খেলার মাঠ ও এতিমখানাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করেছেন। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে তারা জানান।
সম্প্রতি মদনপুর ইউনিয়নের অসহায় ও অসুস্থ মানুষের জরুরি যাতায়াতের সুবিধার্থে নিজের অর্থায়নে একটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান জামাল উদ্দিন চকেট। দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসা পরিবহনের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জামাল উদ্দিন চকেট এর আগে মদনপুর ইউনিয়ন থেকে একাধিকবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তার সমর্থকদের দাবি, অতীতের নির্বাচনে তিনি উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন কিন্তু দুঃখের বিষয় তাহাকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় নাই। তবে নির্বাচনী ফলাফল ও তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে তার পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগও করা হয়েছে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনে।
এদিকে শ্রমিকদের অধিকার আদায়েও সততার সহিত ভোলা জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি হিসেবে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তিনি কাজ করে আসছেন বলে তার অনুসারীরা জানান।
গণমাধ্যমকে আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন চকেট বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মদনপুর ইউনিয়নের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এলাকার মানুষের অনুরোধেই এবার আবারও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, জনগণ যদি তাকে নির্বাচিত করে, তাহলে মদনপুর ইউনিয়নের শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবেন।
তবে নির্বাচন সামনে রেখে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “অপপ্রচারে আমি বিচলিত নই। জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই আমার শক্তি। আমি কোনো স্বার্থ ছাড়াই মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।”
এদিকে মদনপুর ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এখন স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কারণে জামাল উদ্দিন চকেটের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে এলাকায় আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে তার সমর্থকদের দাবি।
Leave a Reply