
মোঃ তুহিন ফরাজী ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের উদয়পুর রাস্তার মাথায় অবস্থিত উদয়পুর রাস্তার মাথা ইসলামি একাডেমির নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিচালন পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান অনুসরণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীরা ভাড়াকৃত যানবাহনে যাতায়াত করে এবং প্রতিদিন ছুটির পর ব্যস্ত ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যস্ত সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ছোট শিশুদের রাস্তা পারাপারে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
গত শনিবার ছুটির পর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দুইজন শিক্ষক রাস্তা পার করানোর সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার ধাক্কায় নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ভোলা সদর হাসপাতাল, এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল এবং সর্বশেষ ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরে পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। শিশু আলীর মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত শিশুর বাবা মো. ইউসুফ অভিযোগ করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় তার সন্তানকে হারাতে হয়েছে।
এ বিষয়ে উদয়পুর রাস্তার মাথা ইসলামি একাডেমির পরিচালক মো. জুয়েল বলেন, “আমাদের নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। এটি একটি নতুন প্রতিষ্ঠান। দুর্ঘটনার সময় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের রাস্তা পার করানোর দায়িত্ব পালন করছিলেন।”
স্থানীয়রা শিশুর মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply