1. mh01610093622@gmail.com : dainikdakshineroporadh :
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
নোটিশ :
কুষ্টিয়ার খাজানগরে খাল দখল ও দূষণে জনজীবন বিপর্যস্ত দেখার যেন কেউ নেই কুষ্টিয়ায় স্বস্তির বাতাস মূল্যবৃদ্ধির মাঝেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে রুহুল ফিলিং স্টেশন কুষ্টিয়া মিরপুরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের চার মাস পরও বিচারহীনতা অসহায় পরিবারের আর্তনাদ ভয়াংকর সংকটে পরবে বিএনপি – পলাশ মন্ডল ভয়ংকর সন্ত্রাসী অস্ত্র ধারী এ কে এম নাসির উদ্দিন নান্নু আবারো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পায় তারা। উচ্ছেদের পরও নিয়ন্ত্রণহীন দখল—গুলিস্তানে ফের সড়ক-ফুটপাত দখলে হকারদের দাপট দৌলতখানে অগ্নি অস্ত্রসহ দুই সন্ত্রাসী ডাকাত আটক, প্রভাবশালী চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট: লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না জ্বালানি,ভোগান্তিতে জনজীবন নেছারাবাদে হাম রুবেলার টিকাদান শুরু : পাবে ২২,৯৭৩ জন শিশু সাত ডাকাতের সঙ্গে জীবন বাজি রেখে একাই লড়লেন গৃহকর্তা : এক ডাকাত নিহত
সংবাদ শিরোনাম:
কুষ্টিয়ার খাজানগরে খাল দখল ও দূষণে জনজীবন বিপর্যস্ত দেখার যেন কেউ নেই কুষ্টিয়ায় স্বস্তির বাতাস মূল্যবৃদ্ধির মাঝেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহে রুহুল ফিলিং স্টেশন কুষ্টিয়া মিরপুরে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের চার মাস পরও বিচারহীনতা অসহায় পরিবারের আর্তনাদ ভয়াংকর সংকটে পরবে বিএনপি – পলাশ মন্ডল ভয়ংকর সন্ত্রাসী অস্ত্র ধারী এ কে এম নাসির উদ্দিন নান্নু আবারো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পায় তারা। উচ্ছেদের পরও নিয়ন্ত্রণহীন দখল—গুলিস্তানে ফের সড়ক-ফুটপাত দখলে হকারদের দাপট দৌলতখানে অগ্নি অস্ত্রসহ দুই সন্ত্রাসী ডাকাত আটক, প্রভাবশালী চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট: লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না জ্বালানি,ভোগান্তিতে জনজীবন নেছারাবাদে হাম রুবেলার টিকাদান শুরু : পাবে ২২,৯৭৩ জন শিশু সাত ডাকাতের সঙ্গে জীবন বাজি রেখে একাই লড়লেন গৃহকর্তা : এক ডাকাত নিহত

৭ নভেম্বর: রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের উত্থানের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ ও তাঁর আদর্শের বাস্তবতা

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭৩ বার ভিউ

আওরঙ্গজেব কামাল :
৭ নভেম্বর মানে এক ঐতিহাসিক দিন। যেটি ছিল বাংলাদেশের জন্য অথ্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ। সেদিন রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান যা উপহার দিয়েছিল এবং পথের আলো জালিয়েছিল সেই আলোতে বা মরুহুম জিয়াউর রহমান এর দেখানো পথে কি বিএনপি চলছে? হয়তো অনেকে আমার এই লেখা দেখে অনেক কিছু ভাববেন কিন্ত আমি যেটা বুঝাতে চেয়েছি সেটা হল ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর—ভোরের
বাতাসে তখন ছিল এক অদ্ভুত উত্তেজনা। শহর থেকে গ্রাম, নগর থেকে জনপদ—সবখানেই মানুষ নেমেছিল পথে। রেডিওতে ভেসে এলো এক কণ্ঠস্বর—‘আমি জিয়া বলছি’। মুহূর্তেই যেন মুক্তিযুদ্ধের ২৬ মার্চের দিনটির স্মৃতি ফিরে এলো জনমানসে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল মানুষ, বুকের ওপর থেকে সরে গেল ভার। পথে
পথে উল্লাস‘সিপাহী-জনতা ভাই ভাই’, ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’, ‘জিয়াউর রহমান
জিন্দাবাদ’। জনতার সঙ্গে সেনাদের মিলনে যেন গড়ে উঠেছিল ইতিহাসের নতুন অধ্যায়।এই দিনটিকে অনেক বিশ্লেষক বলেন বাংলাদেশের রাজনীতির “টার্নিং পয়েন্ট”একটি দিন, যখন বিশৃঙ্খলা থেকে দেশ ধীরে ধীরে খুঁজে পায় স্থিতি ও দিকনির্দেশনা। ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সেনা ও জনগণের এক অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।১৯৭৫ সালের ঘটনাপ্রবাহের প্রত্যক্ষদর্শী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বীর বিক্রম মনে করেন—এই দিনটি ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব
রক্ষার এক বিপ্লবী অধ্যায়। তাঁর ভাষায়, “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে জিয়াউর
রহমানই প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের ডাক দেন। যুদ্ধের সূচনালগ্নে তাঁর কণ্ঠে
স্বাধীনতার ঘোষণা গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর যখন দেশ একদলীয় শাসনে পর্যবসিত হলো, তখন সেনাবাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ
জমা হচ্ছিল। খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান ছিল ওই
অসন্তোষেরই পরিণতি, কিন্তু সেই অভ্যুত্থান সেনাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব মূলত সেই পরিস্থিতিরই প্রতিক্রিয়া, যা দেশের সার্বভৌম স্বার্থে এক নতুন পথ খুলে দেয়।অলি আহমেদের মতে, “জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন, কৃষি, শিল্প ও প্রশাসনে সংস্কার আনেন এবং জাতিকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলেন। তিনি রাজনীতিতে আসতে চাননি, কিন্তু পরিস্থিতি তাঁকে রাষ্ট্রনেতার আসনে বসতে বাধ্য করে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ মনে করেন, “১৫ আগস্ট থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ছিল সেনাবাহিনীর সবচেয়ে অস্থির সময়। খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে ৩
নভেম্বরের অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়—এটা সেনাদের কাছে অপমানজনক ছিল।তাঁর মতে, কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে গঠিত বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেনারা নিজেরাই জিয়াকে মুক্ত করে সেনাপ্রধান হিসেবে পুনঃস্থাপন করেন। “জিয়া তখন চেইন অব কমান্ড পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ফিরিয়ে আনেন,” বলেন তিনি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “৭ নভেম্বর ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য এক টার্নিং পয়েন্ট। এই দিনেই দেশে বহুদলীয় রাজনীতির পথ খুলে যায়, সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই শুরু হয় নতুন যাত্রা।তাঁর মতে, “জিয়াউর রহমানের মুক্তি কেবল একজন সৈনিকের মুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক।রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “৭ নভেম্বরের মাধ্যমে রাষ্ট্রে যে শৃঙ্খলা ও স্থিতি ফিরে আসে, তা ছিল জাতির জন্য নতুন আশার সূচনা। বন্দি জিয়াউর রহমানের মুক্তি জনগণের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।তিনি আরও বলেন, “এ দিনটিকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা ভুল হবে। ৭ নভেম্বর জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। সৈনিক ও জনতার সংহতির যে চিত্র সেইদিন দেখা গিয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে
বিরল।৭ নভেম্বরের সকালটি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি ছিল ইতিহাসের এমন এক মুহূর্ত, যখন একটি জাতি আবার নতুন করে আত্মপ্রত্যয়ী হয়েছিল।রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমানের উত্থান, তাঁর নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও
জাতীয়তাবাদের পুনর্জাগরণ—সব মিলিয়ে ৭ নভেম্বর চিরকাল স্মরণীয় থাকবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে। জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন গণতন্ত্রই জাতির শক্তির মূল। তাই তিনি বহুদলীয় রাজনীতি পুনরায় চালু করেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে উদ্যোগ নেন।
পরবর্তী সময়ে তাঁর নেতৃত্বেই গঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
(বিএনপি)—একটি দল যা দেশের সার্বভৌমত্ব, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে মূল আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে। প্রশ্ন আসে—জিয়াউর রহমান যে পথ দেখিয়েছিলেন, আজকের বিএনপি কি সেই পথে চলছে? জিয়া যে আত্মনির্ভর, গণতান্ত্রিক, নৈতিক রাজনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, সেই আদর্শে টিকে থাকা এখন সময়ের চ্যালেঞ্জ। আজ দলের ভেতরে নানা অভিযোগ উঠছে—দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্ব সংকট, কিছু স্থানে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। শহীদ জিয়া কখনো এমন রাজনীতি চায়নি। তিনি বিশ্বাস করতেন—রাজনীতি মানে জনসেবা, স্বচ্ছতা ও আত্মনিবেদন। কিন্তু আজ অনেক ক্ষেত্রেই সেই আদর্শ
থেকে দলটি বিচ্যুত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।তাঁর দর্শনের মূল ছিল “জনগণের ক্ষমতায়ন”—আজকের রাজনীতিতে সেই দর্শনকে পুনরায় ধারণ করাই হতে পারে বিএনপির জন্য প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি। আজও সেই দিনের শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জাতির ঐক্য ও আত্মবিশ্বাসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়—এটি হবে আদর্শের লড়াইও। জিয়াউর রহমানের রাজনীতির মূল ছিল “জনগণের কাছে ক্ষমতা ফেরত দেওয়া”। আগামী নির্বাচনে বিএনপি যদি সত্যিই তাঁর আদর্শে ফিরে যেতে চায়, তবে আগে দলকে জনগণের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত হতে হবে—দলীয় নেতৃত্বে শুদ্ধি, তৃণমূলে
আস্থা এবং আদর্শভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নয়তো জিয়ার নাম
ব্যবহার করেও তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ইতিহাস কখনো ক্ষমা করবে না। ৭
নভেম্বর আমাদের শেখায়—রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন জনগণ ও সেনা,
শ্রমিক ও কৃষক, শহর ও গ্রাম একসঙ্গে দাঁড়ায়। জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার
শুধু একজন নেতার নয়—এটি এক চেতনার নাম। সেই চেতনা হলো—স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা ও ঐক্যের বাংলাদেশ। আজ, যখন দেশ আবার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে, তখন শহীদ জিয়ার আদর্শই হতে পারে জাতির পথপ্রদর্শক—যদি তাঁর
উত্তরসূরিরা সত্যিই সেই পথ অনুসরণ করতে প্রস্তুত থাকে।
লেখক ও গবেষক:
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেস ক্লাব

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com