
নিজস্ব প্রতিবেদক, মনপুরা:
ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহ এবং পারিবারিক জমি রক্ষার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে মনপুরার সাংবাদিক সমাজ। তাঁরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক বরিশাল প্রতিদিন, অনলাইন পোর্টাল সকালের শিরোনাম এবং চ্যানেল ভোলা–র মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান, যিনি ২ নম্বর হাজীরহাট ইউনিয়নের চর ফৈজউদ্দিন গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও মো. নাজমুল হক হাওলাদারের ছেলে, তিনি তাঁর বাবার বন্দোবস্তপ্রাপ্ত জমিতে জোরপূর্বক দখলের প্রতিবাদ করলে চিহ্নিত ভূমিদস্যু আঃ রব তালুকদার তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, সরকারের কাছ থেকে বৈধভাবে বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের জমি ২০০৮ সাল থেকে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র। আদালতে একাধিকবার পরাজিত হওয়ার পরও তারা নানা কৌশলে জমি দখল করতে চায়। সর্বশেষ ৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে চাষাবাদে বাধা দেওয়ার জেরে ১২ আগস্ট সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে ১ নম্বর আসামি করে মিথ্যা মামলা করে ওই চক্র।
২০০৮ সালে দায়ের করা মূল দেওয়ানি মামলাটি জরিমানাসহ খারিজ হয় ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল।
পরবর্তীতে আপিল করেও চক্রটি ব্যর্থ হয়।
আদালতের রায় বহাল রেখে জমির মালিকানা বজায় রাখেন নাজমুল হক ও মুসলিম গং।
সাংবাদিক সমাজ বলছে, “এটি চাঁদাবাজির নাটক ও মুখ বন্ধের চক্রান্ত”
এই ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটি, মনপুরা প্রেসক্লাব, দৈনিক আলোকিত সকাল, স্বাধীন ভাষা, দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা , সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংগঠন।
মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মহিব্বুল্লাহ ইলিয়াছ ও সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান খান এক বিবৃতিতে বলেন:
“একজন সৎ ও সাহসী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মতো কাল্পনিক অভিযোগ তুলে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এই মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।”
সদস্য সচিব কামরুল হোসেন (সুমন) বলেন:
এই মামলা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। এটি শুধুমাত্র সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করতে দায়ের করা হয়েছে।
দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদের প্রধান উপদেষ্টা-ভোলা জেলার শ্রমিক নেতা বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন (জামাল) বলেন সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে মিথ্যা মামলা, দমন-পীড়ন, ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু মনপুরার ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে — প্রশাসনের নীরবতা এবং দখলদার চক্রের দৌরাত্ম্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
এই ঘটনার প্রতি দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে দমন করার সকল অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে এখনই।
Leave a Reply