
বিশেষ প্রতিনিধি :
বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ক্লাব (WIPC) তাদের নতুন আন্তর্জাতিক কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেছে।সংগঠনের আন্তর্জাতিক বোর্ডের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক এবং প্রেস ক্লাব অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টসের (নিবন্ধিত) জাতীয় সভাপতি ড. সৈয়দ খালিদ কায়েসকে আন্তর্জাতিক সহ সভাপতি পদে মনোনীত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বোর্ডের সভায় নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে বাংলাদেশের আওরঙ্গজেব কামালকে সর্বসম্মতিক্রমে আন্তর্জাতিক সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে এবং তুরস্কের ওসমান বায়কুশকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, আন্তর্জাতিক কার্যনির্বাহী কমিটিতে লংকা অর্কিন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাঙ্গা বান্দাকান্দে কে সভাপতি,এবং ভারতের ড. সৈয়দ খালিদ কায়েসকে আন্তর্জাতিক সহ -সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। কমিটিতে আন্তর্জাতিক বোর্ড পাকিস্তানের মিয়ান ইশতিয়াক আলীকে আন্তর্জাতিক মহাসচিব নির্বাচিত করেছে। ভারতের বাসিন্দা জনাব সমরেশ রায়কে আন্তর্জাতিক সাংগঠনিক মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের সৈয়দ ইয়াসিন মতিনকে আন্তর্জাতিক কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদিকা শম্পা দাস, দপ্তর সম্পাদক সৌদি আরবের আলহাজ্ব সোহাগ, কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশের আনিস প্রধান, এছাড়া বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছেন লায়ন্স হেলাল উদ্দিন হিলু, খান সেলিম খান সেলিম রহমান, আলহাজ্ব জহুরুল আমিন, রফিকুল ইসলাম প্রমূখ।
আফগানিস্তানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সম্মেলনের সময় এসব মনোনয়ন ও নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ড. কায়েসের এই নিয়োগকে ভারতের জন্য গৌরবের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ড. কায়েস গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকদের স্বার্থ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আইন এবং ডিজিটাল গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। এ উপলক্ষে ড. সৈয়দ খালিদ কায়েস বলেন, “এই সম্মান আমার একার নয়; বরং ভারতের লাখ লাখ পরিশ্রমী সাংবাদিকের, যাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে শক্তিশালী করে চলেছেন। ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে আমরা বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করব। বিশেষ করে আফগানিস্তান ও সিরিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার হবে। ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের আন্তর্জাতিক সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল বলেন, ড. কায়েসের অভিজ্ঞতা বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে সংগঠনকে সহায়তা করবে এবং এশিয়ায় সংগঠনের বিস্তার ঘটবে। নতুন আন্তর্জাতিক কার্যনির্বাহী কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আফগানিস্তান, জার্মানি, নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাসহ ২৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য,ড. সৈয়দ খালিদ কায়েস পেশায় একজন আইনজীবী, প্রবীণ সাংবাদিক, লেখক ও চিন্তাবিদ। তিনি প্রেস ক্লাব অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টসের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় সভাপতি।সাংবাদিকদের বর্তমান অবস্থা, তাঁদের অধিকার এবং গণতন্ত্রে সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ রক্তাক্ত’, ‘দেশে নিরাপদ নয় নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা’ এবং ‘হিন্দি সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর’।তাঁর নতুন বই ‘কলম এখনো বেঁচে আছে’ প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তাঁর জীবনদর্শন, বক্তব্য এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত ‘ইন্টারন্যাশনাল পেন অব কনশিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড’-এর সম্মাননাপত্র থেকে তাঁর চিন্তাভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
১. কলমই সত্যের মশাল
পুরস্কার কমিটি জানিয়েছে, তাঁর নির্ভীক অভিব্যক্তি, নৈতিক স্বচ্ছতা এবং সত্যের প্রতি অঙ্গীকার মানুষের চিন্তাভাবনাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সততা ও উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা শব্দ একটি প্রজন্মকে জাগিয়ে তোলার শক্তি রাখে।
ড. কায়েস মনে করেন, সাংবাদিকতা ক্ষমতাসীনদের তোষামোদ করার মাধ্যম নয়; বরং এটি বিবেকের কণ্ঠস্বর।
২. সাংবাদিকদের নিরাপত্তাই গণতন্ত্রের নিরাপত্তা
তাঁর মূল দর্শন হলো— বিবেকের আলোয় পরিচালিত সাংবাদিকতাই গণতন্ত্রের প্রকৃত রক্ষক।
এ কারণে সাংবাদিকদের জন্য নিরাপত্তা আইন, বিমা, পেনশন এবং ডিজিটাল গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের স্বীকৃতি নিশ্চিত করাকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
৩. নিরপেক্ষতা ও নির্ভীকতা
তিনি বলেছেন, এই সম্মান তাঁদের সব সাংবাদিকের, যাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সত্য ও নৈতিক সাংবাদিকতার পক্ষে অবিচল থাকেন।
সাংবাদিকতায় জাতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক দলের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর নীতিতে তিনি বিশ্বাসী।
৪. সংগঠনের মধ্যেই শক্তি
ড. কায়েসের বিশ্বাস, একজন বিচ্ছিন্ন সাংবাদিক দুর্বল হতে পারেন; কিন্তু ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিকেরা ক্ষমতাকেও প্রশ্ন করতে পারেন।
এই দর্শনের ভিত্তিতেই তিনি প্রেস ক্লাব অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টসকে সর্বভারতীয় সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলেছেন, যার কার্যনির্বাহী কমিটিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংবাদিকেরা রয়েছেন।
সংক্ষেপে, তাঁর জীবনদর্শন হলো— ভয় পেয়ো না, বিক্রি হয়ো না, মাথা নত করো না; কলমকে বিবেকের কণ্ঠস্বর করে তোলো।
ড. সৈয়দ খালিদ কায়েসের উল্লেখযোগ্য সম্মাননা
২০২৬ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল পেন অব কনশিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড’ ছাড়াও সাংবাদিকতা, সাহিত্য ও সমাজসেবায় অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. ইন্টারন্যাশনাল পেন অব কনশিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড—২০২৬
প্রদানকারী: দ্য জমহারা ওয়ার্ল্ড নিউজ—সচ সন্দেশ। প্রতিষ্ঠাতা: অধ্যাপক অ্যাম্বাসেডর রেভারেন্ড ড. জিতেন্দ্র সিং।
নির্ভীক, নিরপেক্ষ ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্মাননাপত্রে তাঁর নৈতিক স্বচ্ছতা ও সত্যের প্রতি অঙ্গীকারের প্রশংসা করা হয়।
২. সাংবাদিক গৌরব সম্মাননা
পরিশ্রমী সাংবাদিকদের অধিকার ও দাবি তুলে ধরা এবং প্রেস ক্লাব অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টসকে সর্বভারতীয় সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিভিন্ন রাজ্য শাখার পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছে।
৩. সাহিত্যিক সম্মাননা
‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ রক্তাক্ত’সহ তাঁর বিভিন্ন বইয়ে গণতন্ত্রের মধ্যে সাংবাদিকদের দুরবস্থা তুলে ধরার জন্য সাহিত্যাঙ্গনের বিভিন্ন মঞ্চে তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছে।
৪. ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের আন্তর্জাতিক সহসভাপতি পদে মনোনয়ন—২০২৬
আফগানিস্তানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ২০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে তাঁকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মনোনয়নকে একটি আন্তর্জাতিক সম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫. আইন ও বিচারক্ষেত্রে সম্মাননা
পেশায় আইনজীবী হিসেবে সাংবাদিকদের আইনি অধিকার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আইন প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করার জন্য বার অ্যাসোসিয়েশন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাছ থেকেও তিনি সম্মাননা পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ড. কায়েস এসব সম্মাননাকে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে না দেখে দেশের লাখ লাখ পরিশ্রমী সাংবাদিকের সম্মান হিসেবে বিবেচনা করেন— যাঁরা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই গণতন্ত্রকে সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।
Leave a Reply