
নিজস্ব প্রতিনিধি | ইয়াসমিন বেগম
বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের আলোচনা ও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে কোনো অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের স্বচ্ছতা নিয়ে মাঝে-মধ্যেই প্রশ্ন ওঠে। এমন বাস্তবতার মধ্যেই মেহেরপুর জেলা পুলিশের একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজর কেড়েছে।
মেহেরপুর জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল এক মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযান পরিচালনার আগে স্থানীয় বাসিন্দা, গণমাধ্যমকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে নিজেদের শরীর তল্লাশি করিয়ে তারপর অভিযানে অংশ নেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল অভিযানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে পুলিশের বিরুদ্ধে বাইরে থেকে মাদক নিয়ে এসে উদ্ধারের অভিযোগ তোলার সুযোগ কমিয়ে আনা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রশংসা ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকের মতে, এমন প্রক্রিয়া নিয়মিত অনুসরণ করা হলে মাদকবিরোধী অভিযানের প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মত, শুধু অভিযানের আগে শরীর তল্লাশি করানোই যথেষ্ট নয়। অভিযানের ভিডিও ধারণ, স্বাধীন সাক্ষীর উপস্থিতি, জব্দ তালিকা প্রণয়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করা হলে জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলেও অতীতে কিছু অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মেহেরপুর জেলা পুলিশের এই উদ্যোগকে অনেকেই একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। যদিও এটি এখনো সারা দেশের জন্য বাধ্যতামূলক কোনো নিয়ম নয়, তবুও এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় উৎসাহিত করতে পারে।
আপনার মতামত কী?
#মাদকবিরোধী অভিযানের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এভাবে প্রকাশ্যে তল্লাশি করানো কি সারা দেশে নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে চালু হওয়া উচিত? আপনার মতামত জানান।
Leave a Reply