
মোঃ অনিকুল ইসলাম উজ্জ্বল
বরগুনার আমতলীতে আবদুল খালেক ঢালী তিনি বিনা পারিশ্রমিকে এক হাজারেরও বেশি মৃতদেহের গোসল ও দাফনের কাজ করাতেন। বয়স ৯০ পার করলেও কোথাও কোনো মৃতদেহ থাকলে শরীর না চললেও মনপ্রাণ ছুটে চলে এখনো! বয়সের ছাপ শরীরে , রোগ শোকে জর্জরিত শরীর। সাহায্য পেয়ে চলে ঔষধের খরচ।
বয়সের ভারে শরীর এখন জরাজীর্ণ! আব্দুল খালেক ঢালী বয়স আনুমানিক ৯৫ বছর। বাসস্থান আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নে।
জরাজীর্ণ দেহ নিয়ে এখন আর আগের মতো ছুটে চলা হয় না তার। বয়স আর শরীর সময়ের সাথে সাথে যেন থমকে আছে। অপেক্ষা এখন মৃত্যুর!জীবনের শেষ সময় পার করছেন খালেক ঢালী। তার জীবনের প্রায় পুরোটা সময় দিয়েছে মানব সেবায় বিলিয়ে। মানুষের অন্তিম যাত্রার সফরের গোসল ও কাফনের কাজে নেননি পারিশ্রমিক। আল্লাহকে ভালোবেসে তার জীবনের পুরো ৭০ টি বছর বিলিয়ে দিয়েছে মৃতদেহের গোসল করিয়ে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে।
যেখানে অনেক সময় আপনজনও প্রিয় মানুষের মরদেহ স্পর্শ করতে দ্বিধাবোধ করেন, সেখানে খালেক ঢালী পরম মমতা, দায়িত্ববোধ ও ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সম্পন্ন করেছেন শেষ বিদায়ের পবিত্র কাজটি।
কোথাও কারো মৃত্যুর খবর পেলেই দিন-রাতের তোয়াক্কা না করে ছুটে যান তিনি। গভীর রাত হোক কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। বিনিময়ে কখনো কিছু চাননি; মানুষের শেষ বিদায়ের কাজটুকু সঠিক ভাবে সম্পন্ন করাই ছিল তার একমাত্র তৃপ্তি।
এভাবেই বছরের পর বছর নিঃস্বার্থ সেবার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের আস্থার প্রতীক ও শেষ বিদায়ের নির্ভরতার নাম।
তবে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ৩ মেয়ের বাবা ভুমিহীন সেই মানবিক মানুষটিই আজ অভাব-অনটন, বার্ধক্য ও শারীরিক দুর্বলতায় বিপর্যস্ত। একসময় মানুষের প্রয়োজনে নিরলস ভাবে ছুটে বেড়ানো খালেক ঢালী এখন নিজের জীবন সংগ্রামে অনেকটাই অসহায়।বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তার পরিবার।
Leave a Reply