
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলা-এর বাগুলাট ইউনিয়নে কালী গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু আজ জনভোগান্তির এক মর্মান্তিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় দুই দশক আগে নির্মিত এই সেতুটি এলাকাবাসীর স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ এখন সর্বত্র।
স্থানীয়দের দাবি,সেতুটি নির্মাণের সময় নদীর প্রকৃত বিস্তৃতি ও প্রবাহের বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়। ফলে ছোট পরিসরে নির্মিত এই সেতু আজ কার্যত অচল। প্রতিদিন হাজারো মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে—কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত কিংবা জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই বাধার সৃষ্টি করছে এই সেতু।
জানা গেছে,প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস-এর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই সেতুটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন পরিকল্পনার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়,সরকারের অর্থ ব্যয় হয়েছে,কিন্তু জনগণের কোনো উপকারে আসেনি—এ যেন অপচয়ের এক দৃষ্টান্ত।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আশ্বাসের পর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সেতুটির কোনো উন্নয়ন হয়নি,যা জনমনে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়িয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন—এত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদীর ওপর কেন এমন অপরিকল্পিত ও অপ্রতুল সেতু নির্মাণ করা হলো? এটি কি শুধুই অবহেলা, নাকি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কোনো বড় ধরনের গলদ—এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত একটি আধুনিক,কার্যকর ও উপযোগী সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের সোজাসাপ্টা কথা প্রতিশ্রুতি নয়,আমরা বাস্তব কাজ দেখতে চাই।ইতোমধ্যে দাবি আদায়ে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
জনগণের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছেন কুমারখালীবাসী।
Leave a Reply