
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়ায় ঐতিহ্যবাহী শিল্পপ্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া সুগার মিল-এর জমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লীজ দেওয়ার প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় আখচাষি, শ্রমিক ও সচেতন নাগরিকরা। এরই প্রতিবাদে শুক্রবার (১ মে) বিকেলে মিলের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন রূপ নেয় এক আবেগঘন জনসমুদ্রে, যেখানে শত শত মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত হয় মিল পুনরায় চালুর দৃঢ় প্রত্যয়।
“কুষ্টিয়া সুগার মিল চালুকরণ ও ইক্ষু রোপণ পরিষদ”-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল মাজেদ। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কর্মী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, কুষ্টিয়া সুগার মিল শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়—এটি এ অঞ্চলের হাজারো আখচাষি ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই আখচাষে নেমে এসেছে চরম মন্দা, আর্থিক সংকটে পড়েছেন কৃষকরা, স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি।
মানববন্ধনে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বক্তারা অভিযোগ করেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে মিলের জমি লীজ দেওয়ার চিন্তাভাবনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং মিলটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে দ্রুত চালুর দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের চিনি শিল্পকে উপেক্ষা করে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। বরং বন্ধ হয়ে যাওয়া সুগার মিলগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা গেলে কৃষি ও শিল্প—উভয় খাতেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মানববন্ধনে আখচাষি, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। মিল চালুর দাবিতে তাদের কণ্ঠ ছিল ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়।
শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কুষ্টিয়ার মানুষের এই প্রতিবাদ যেন শুধু একটি মিলকে ঘিরে নয়—বরং এটি হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষকস্বার্থ এবং শিল্প রক্ষার বৃহত্তর আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি।
Leave a Reply