
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের ফুলতলা মোড়ে সরকারি জমি অবৈধভাবে বিক্রি ও দখল করে বসতি গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে সেখানে প্রায় ৮০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জমি দখল ও বিক্রির এই কার্যক্রমের পেছনে আইয়ুব নামের এক ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগীরা জড়িত।
স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রায় দুই বছর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করলেও পুনরায় শুরু হয়েছে জমি দখল ও বিক্রির কার্যক্রম। ২০২৩ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ভূমি অফিসের যৌথ অভিযানে এসব ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু এরপরও কীভাবে আবার সরকারি জমিতে এতগুলো ঘর নির্মিত হলো,তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে,আইয়ুব নামের ওই ব্যক্তি ভূমি অফিসের নাম ব্যবহার করে মানুষকে জমির তালিকা থেকে নাম কাটিয়ে দেওয়া বা জমির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা আদায় করছেন। তিনি নিজেই প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি ঘর বসিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জমি কেনা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঘরপ্রতি ২ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া আইয়ুব,মগাই,রাশিদুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা,পতিতাবৃত্তি ও অন্যান্য অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি জমি জনগণের সম্পদ। সেই জমি অবৈধভাবে বিক্রি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। পূর্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও কীভাবে একই স্থানে আবার অবৈধ বসতি গড়ে উঠছে,কারা এর পেছনে মদদ দিচ্ছে এবং ভূমি অফিসের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা কী এসব বিষয় দ্রুত তদন্ত করা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন,ভূমি অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে এলাকাবাসীর দাবি,অবিলম্বে তদন্ত করে সরকারি জমির সীমানা নির্ধারণ,অবৈধ দখল ও জমি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
Leave a Reply