
বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে মামুন ও মঞ্জু গুরুতর অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের সোলেমান খনকার ও রুব্বানও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে এক পক্ষের হলেন—প্রবাসী রবিউলের ছেলে শাকিল (১৮), বশিরের ছেলে মামুন (৪০), রতনের ছেলে মঞ্জু (৩৮) এবং প্রবাসী রবিউলের স্ত্রী কুলসুম (৪৫)।
প্রবাসীর বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধপূর্ণ জমিতে সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। তাঁদের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। ঘটনার দিন প্রতিপক্ষের লোকজন সুপারি পেড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁরা বাধা দেন। এ সময় প্রবাসী রবিউলের বাড়িঘরে হামলা চালানো হয় এবং দা দিয়ে কুপিয়ে, হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নারীসহ চারজন আহত হন।
এ ঘটনায় ছলেমান বয়াতি, তাঁর ছেলে আব্বাস আলী, পুত্রবধূ রূপবান এবং অনু, সিদ্দিক, সবুজ, নিরব ও কুটিয়া আওলাদ রায়হানসহ তাঁদের পক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিপক্ষের দুজনও আহত
অন্যদিকে, একই ঘটনায় প্রতিপক্ষের সোলেমান খনকার ও রুব্বান আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তবে তাঁদের আঘাতের ধরন ও ঘটনার বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী দাবি হাসপাতালে যেতে বাধা দেওয়ার হয়েছে। আহত মামুন ও মঞ্জু বলেন প্রতিপক্ষ হামলার পর তাঁদের হাসপাতালে যেতে বাধা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের মধ্যে একজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। এরপর পুলিশের সহায়তায় তাঁরা হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ পান বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
গুরুতর আহত মামুন ও মঞ্জু বর্তমানে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশ্রাব আলী জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply