
হাফিজুর রহমান (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে টাকা দাবি, মালামাল নিয়ে নেওয়া ও মারধরের অভিযোগ করেছেন নারাঙগালী গ্রামের আসাদুজ্জামান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই আশরাফুল আলম। তাঁর দাবি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তাঁর আপন ভাই আসাদুজ্জামান ও গ্রেপ্তারের পরে আসামি রেজাউলের দেওয়া অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে। আশরাফুলের আরও দাবি, অভিযোগকারীর মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট মালামাল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানায় জব্দ অবস্থায় রয়েছে।
এএসআই আশরাফুল আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়ে রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ২৪ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা ও তিনজন কনস্টেবল রেজাউল করিমের ঝিকরগাছা পৌর এলাকার বাড়িতে যান। তবে সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
, রেজাউল করিমকে বাড়িতে না পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ফিরে আসার সময় তাঁর আপন ছোট ভাই আসাদুজ্জামান তাঁকে আসামিকে গ্রেপ্তার না করার জন্য অনুরোধ করেন এবং অনৈতিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন। তবে তিনি আইনবহির্ভূত কোনো প্রস্তাবে রাজি হননি ।
তিনি আরও জানান, একই দিন সকাল ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত রেজাউল করিম নিজ এলাকায় একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করেন এবং থানায় নিয়ে এসে বিধি অনুযায়ী হাজতে রাখেন। আসামি রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তারের সময়ও তাঁর ভাই আসাদুজ্জামান ও গ্রেপ্তারের পরে রেজাউল টাকা-পয়সা দেয়ার কথা বলে তাঁকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তবে তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে টাকা দাবি, মালামাল নিয়ে নেওয়া ও মারধরের অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, আসাদুজ্জামানের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে কক্ষ তল্লাশি করে। পরদিন সকালে থানায় গেলে এএসআই আশরাফুল আলম তাঁর কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁর পকেটে থাকা নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেওয়া হয় এবং তাঁকে থাপ্পড় মারা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিশারা ইউনিয়নের নারাঙগালী গ্রামের বাশিন্দা। তিনি এ ঘটনায় নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সময় ঝিকরগাছা থানার সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি ধারণ হয়ে থাকতে পারে।
তবে এএসআই আশরাফুল আলম অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, আসাদুজ্জামানের কাছে মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোনসহ সংশ্লিষ্ট মালামাল দিতে চাই কিন্তু তিনি নিতে অস্বীকার করেন যে কারণে থানায় জিডি মূল্যে জব্দ অবস্থায় রয়েছে। মালামালগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানায় রাখা হয়েছে; অবৈধভাবে কোনো কিছু আটক বা আত্মসাৎ করা হয়নি।
Leave a Reply