
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :-
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার।
কুষ্টিয়ায় ২৫৭ টি পূজামন্ডপে দুর্গোৎসব,সম্প্রীতি রক্ষায় বিএনপি’র সহযোগিতা চাইল পূজা উদযাপন পরিশোধ। গুজব,উসকানি ও অপপ্রচার প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান।
শান্তিপূর্ণ উৎসব আয়োজনে রাজনৈতিক দল,প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভা। সভায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। আসন্ন দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দল,প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়দেব কুমারসহ বিভিন্ন এলাকার পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তা এবং উৎসবের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
সভায় পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার কুষ্টিয়া জেলায় ২৫৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বিপুলসংখ্যক মণ্ডপে নির্বিঘ্নে পূজা আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে বিএনপি নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা,নিরাপত্তা ও উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় পূজামণ্ডপে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা জানানো হয়।
পূজা উদ্যাপন পরিষদের বক্তব্যে বলা হয়,শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে। তাই উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য রক্ষায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ,সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা জরুরি।
বক্তব্যে আরও গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, কোনো ধরনের গুজব, উসকানি কিংবা অপপ্রচার যেন দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ফাটল ধরাতে না পারে,সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোথাও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দ্রুত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও মানুষের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা বলেন,কুষ্টিয়ার অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য রক্ষা করা কোনো একক ব্যক্তি,সংগঠন কিংবা রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নয় এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বের পাশাপাশি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এবারের দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে,উৎসবকেন্দ্রিক প্রস্তুতি সভা শুধু আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের ক্ষেত্র নয়,বরং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারেরও সুযোগ। তবে ২৫৬টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আলোচনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যকর সহযোগিতা, দায়িত্বশীল আচরণ এবং গুজব প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াই হবে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিশেষে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে কুষ্টিয়াবাসীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে অশুভ,অশান্তি ও হিংসা দূর হয়ে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা,সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির প্রত্যাশায় আসন্ন দুর্গোৎসবকে সর্বজনীন আনন্দের উৎসবে পরিণত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে সভার মূল বার্তা হয়ে ওঠে—মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সম্প্রীতি ও মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নে ঐক্যের বিকল্প নেই।
Leave a Reply