
রেশমা চৌধুরী,
চোখে অশ্রু, মনে অসহায়ত্ব—এক অবুঝ শিশু আজ তার একমাত্র ভাইয়ের হত্যার বিচার চেয়ে নির্বাক প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাবের কারণে যদি একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে এই শিশুটি কার কাছে বিচার চাইবে?
ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাচরা ইউনিয়নের বাসিন্দা সেরিনা বেগম। তার একমাত্র ছেলে জিহাদ ১৮ জীবিকার তাগিদে তাহার পাশের বাড়ির তাহের চেয়ারম্যানের ভাতিজা লিটনের কথামতো লিটনকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য আদম ব্যবসায়ী লিটনকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে ময়লা পরিষ্কারের কাজ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর জিহাদকে মোটা জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ওই হামলায় জিহাদ গুরুতরভাবে আহত হয়ে শারীরিকভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেন। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
একটি সন্তানের মৃত্যুতে যেমন একটি মায়ের বুক খালি হয়ে যায়, তেমনি জিহাদের মৃত্যুর পর তার ছোট্ট বোনও হারিয়েছে তার একমাত্র আপনজনকে। আজ সেই শিশুটির ভাইয়ের ছবি বুকে নিয়ে চোখের পানি যেন একটি প্রশ্নই করছে—“আমার ভাইকে যারা হত্যা করেছে, তাদের কি কোনো বিচার হবে না?”
পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত লিটন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এক চেয়ারম্যানের ভাতিজা হওয়ায় তারা ন্যায়বিচার পেতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
একজন প্রবাসীর স্বপ্ন ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। সেই স্বপ্ন আজ পরিণত হয়েছে একটি মায়ের কান্নায় এবং একটি শিশুর বিচারপ্রার্থনায়।
প্রশ্ন উঠছে—
জিহাদের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত হবে কি?
অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে কি?
প্রভাবশালী পরিচয় কি আইনের ঊর্ধ্বে?
একটি অসহায় পরিবারের দাবি—তারা প্রতিশোধ চায় না, তারা চায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি পরিবারের আকুল আবেদন, জিহাদের মৃত্যুর ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথে থাকুন।
অথবা শিশুটির মায়ের সাথে কথা বলুন,
০১৩০৮৭১৩৪২৪
Leave a Reply