
আমতলী প্রতিনিধি
বরগুনার আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কের কালীবাড়ী ও পাতাকাটা এলাকায় কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রায় ২০০ মিটার সড়ক ধসে খালে পড়ে গেছে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। শুক্রবার ও শনিবার ধসের ঘটনা ঘটে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যাদেশ অনুযায়ী কাজ না করা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণে সড়কটি ধসে পড়েছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।জানা গেছে, আমতলী-গাজীপুর আঞ্চলিক সড়কটি প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমতলী কালীবাড়ী থেকে তালুকদার বাজার পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় রাজশাহীর বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কাজের সাব-কন্ট্রাক্ট নেন আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই নির্মাণকাজে নানা অনিয়ম করা হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কার্যাদেশ অনুযায়ী সড়ক সম্প্রসারণ ও পুনর্নির্মাণ না করার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও বাবুলের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়মের বিষয়ে তারা একাধিকবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান ও আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলীকে জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, কালীবাড়ী ও পাতাকাটা এলাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে খালের মধ্যে পড়ে গেছে। এর মধ্যে কালীবাড়ী এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার সড়কের একটি অংশ চালিতাবুনিয়া খালে ধসে পড়েছে। সড়কের ওপর বিভিন্ন প্রজাতির গাছও পড়ে রয়েছে। ফলে ওই পথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে বরগুনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।আমতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেহেদী জামান রাকিব বলেন, ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়ম করায় সড়কের বড় একটি অংশ খালে ধসে পড়েছে। কাজের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে একাধিকবার জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।চাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান বাদল খান সড়ক ধসে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সড়ক খালে ধসে পড়েছে। আপনারা যা পারেন লিখে দেন। দেখি তাতে কী হয়।আমতলী এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সড়ক খালে ধসে যাওয়ার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ধসের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।বরগুনা এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।সড়ক ধসে খালে পড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগও কঠোরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply