
মোঃ অনিকুল ইসলাম উজ্জ্বল
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি : পিরোজপুরের “মঠবাড়িয়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত ভে’ঙে দিলো চাচা, পরীক্ষা অনিশ্চিত” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার একজন শ্রুতিলেখক বা ‘রাইটার’ প্রদানের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও সহযোগিতা করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার শাঁখারিকাঠি গ্রামে বিথী আক্তার (১৫) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত হাতুড়ি দিয়ে ভে’ঙে দেয় তার চাচাতো চাচা৷
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, আমরা পরীক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। মেয়েটির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করা হয়েছে। রিসিভার নিয়োগের কাজ চলমান এবং বোর্ডে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। মেয়েটি আগামীকাল এলে পরীক্ষা দিতে পারবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাখারিকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিথী আক্তার ওই গ্রামের মো. বাদল হাওলাদারের মেয়ে এবং তুষখালী তোফেল আকন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। এসএসসির প্রথম দিনের পরীক্ষা দেয়ার পর এ ঘটনা ঘটে৷
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিথী আক্তারের বাবা বাদল হাওলাদারের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে চাচাতো চাচা নজরুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল৷ মঙ্গলবার দুপুরে বাদল হাওলাদারের স্ত্রী তাদের রান্নাঘরে রান্না করছিলেন৷ রান্না ঘরের ধোঁয়া নজরুল ইসলামের পাকা ভবনে গেলে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে৷ এদিকে বিথী পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে মারামারির ঘটনা দেখে মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে গেলে চাচা নজরুল মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক কেড়ে নেয়। পরে বিথী মোবাইল ফোনটি আনতে গেলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম হাতুড়ি দিয়ে বিথীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার ডান হাত ভে’ঙে যায়।
হাতুড়ির উপর্যুপরি আঘাতে বিথীর ডান হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। আহত বিথীকে উদ্ধার করে প্রথমে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।চিকিৎসকরা বিথীর হাড়ের জখম অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
Leave a Reply