
মোঃ মনিরুল ইসলাম
সদর উপজেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া। বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। আর এই দেশের কৃষকই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষকের ক্ষেত থেকে ঘরে ফসল আনতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কুষ্টিয়া জেলার সাইবেরিয়া বিল এলাকাসহ আশেপাশের মাঠঘেরা এলাকায় বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্ষা নামার পর থেকেই মাঠের রাস্তাগুলো কাদায় একেবারে বেহাল হয়ে পড়ে। ফলে কৃষক তাদের কষ্টার্জিত আবাদি ফসল ঘরে তুলতে পারেন না ঠিকমতো। আগেকার দিনে গরুর গাড়ি ও মহিষের গাড়িতে করে ফসল পরিবহণ করা হতো, যা এখন বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমানে সেই জায়গায় স্থান নিয়েছে স্যালো ইঞ্জিনচালিত স্টিয়ারিং টলি। তবে এ সকল যানবাহন কাদা রাস্তায় চলাচল করতে না পারায় ধান,শাক,সবজিসহ নানান ধরণের কৃষিপণ্য মাঠেই পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সাইবেরিয়া বিলের একজন স্বনামধন্য কৃষক জিয়ারত বলেন, “মাঠের যেই রাস্তাগুলো দিয়ে ফসল ঘরে তুলি, সে রাস্থাগুলোর কোনো সংস্কার হয় না। ফলে বৃষ্টির পরপরই এসব রাস্তায় কাদা জমে যায়। তখন স্টিয়ারিং টলি চলতে পারে না। আমরা ফসল কেটে মাঠে রাখি, কিন্তু গাড়িওয়ালারা সিরিয়াল অনুযায়ী আনতে বিলম্ব করে, ফলে অনেক সময় ধান ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য যেসব খাল রয়েছে, সেগুলো এখন কচুরিপানায় ভরে গেছে। তার ওপর অনেক জেলে মাছ ধরার জন্য বাঁধ দিয়ে রেখেছে, ফলে পানি নামতে পারে না। একটু বৃষ্টি হলেই মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে এক স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞ বলেন, “আমাদের দেশের অর্থনীতি এখনও কৃষিনির্ভর। কিন্তু মাঠের অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে নজরদারি একেবারেই কম। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত মাঠের রাস্তা উন্নয়ন, খাল খনন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, না হলে কৃষক বারবারই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের দাবি,দ্রুত মাঠের রাস্তা সংস্কার, খাল পরিষ্কার করে পানি চলাচলের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হলে। তাহলেই কৃষক তার উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারবে নির্বিঘ্নে, ও লাভবান হবে দেশ।
Leave a Reply