
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার জুগিয়া বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন এবং এ-সংক্রান্ত কার্যাদেশের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তা বাড়ানোর অভিযোগ এবং জেলা পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করে কার্যাদেশ সম্প্রসারণের প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করা হয়েছে। মামলাটি আগামী ২৮ অক্টোবর শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ আদি এখতিয়ারাধীন রিট পিটিশন নম্বর ৮৮৭২/২০২৬-এর নথি অনুযায়ী,গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার-সংক্রান্ত আবেদনটি নথির সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি ২৮ অক্টোবর শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাখতে বলেন।
রিটের আবেদনকারী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া এলাকার বাসিন্দা শেখ এমদাদুল হক। এতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়,ভূমি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক,কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক,পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বালুমহালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ সাতজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
কার্যাদেশের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন
রিটের বিবরণে বলা হয়েছে,কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া বালুমহালের ডাইক নম্বর ১ এর জন্য ষষ্ঠ বিবাদী মো. মহিদুল ইসলামের প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেহেদী এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে দেওয়া কার্যাদেশের মেয়াদ ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল শেষ হয়। এরপর কুষ্টিয়া জেলা পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কমিটি ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি কার্যাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এর পরও কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্য-সচিবের জারি করা ১৮ মে ২০২৬ তারিখের একটি স্মারকের মাধ্যমে কার্যাদেশের মেয়াদ ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনকারীর বক্তব্য, পূর্ববর্তী কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর এমন সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্বের প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ কারণে কার্যাদেশ সম্প্রসারণের বৈধতা এবং এর ভিত্তিতে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখার বিষয়টি আদালতের বিবেচনার জন্য এসেছে।
পরিবেশ,বাঁধ ও সরকারি রাজস্বের ক্ষতির আশঙ্কা
রিটে আরও অভিযোগ করা হয়েছে,কুষ্টিয়ার জুগিয়া বালুমহাল থেকে আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ,সুরক্ষামূলক বাঁধ, সরকারি রাজস্ব এবং এলাকাবাসীর মৌলিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নদী ও বালুমহাল ব্যবস্থাপনায় আইনগত অনুমোদন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যথাযথ অনুসরণ এবং জনস্বার্থ রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামূলক বাঁধের নিরাপত্তা ও স্থানীয় পরিবেশের ওপর বালু উত্তোলনের প্রভাব নিয়ে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
তবে রিটে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে কার্যাদেশ সম্প্রসারণের বৈধতা,বালু উত্তোলনের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের শুনানি ও পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করবে।
২৮ অক্টোবরের শুনানিতে নজর
আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার-সংক্রান্ত আবেদনটি নথিতে রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৮ অক্টোবর বিষয়টি শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সরবরাহ করা আদেশের অনুলিপিতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে—এমন কোনো নির্দেশ নেই। তাই এ পর্যায়ে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়েছে বা বালু উত্তোলনের বিষয়ে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন,এমন দাবি করা সমীচীন হবে না।
এখন সংশ্লিষ্ট মহলের নজর ২৮ অক্টোবরের শুনানির দিকে। ওই শুনানিতে কার্যাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত,জেলা কমিটির পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত এবং বালু উত্তোলনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে কী অবস্থান উঠে আসে,তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জুগিয়া বালুমহাল ঘিরে এ আইনি লড়াই কেবল একটি কার্যাদেশের মেয়াদ নিয়ে বিরোধ নয় এর সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা,প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা,পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনস্বার্থের প্রশ্নও জড়িত। আদালতের পরবর্তী আদেশে এসব প্রশ্নের কোন দিকটি কীভাবে বিবেচিত হয়,এখন সেটিই দেখার বিষয়।
Leave a Reply