
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়া শহরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিএনসি একটি অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পরবর্তীতে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা। এই গরমিল নিয়ে এখন জেলার সাধারণ মানুষ, সামাজিক সংগঠন ও সাংবাদিক মহলে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়া পৌরসভা ১৮ নম্বর ওয়ার্ড উদিবাড়ী মজমপুর। অভিযানে গ্রেফতার হন মোঃ বিপ্লব হোসেন (৪৫), পিতা-মোঃ শুকুর আলী, মাতা-মোছাঃ সেলিনা বেগম, উদিবাড়ি মজমপুর, থানা-সদর, জেলা-কুষ্টিয়া। অভিযানের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় বিপ্লব হোসেনের কাছ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ ভিডিও এবং পরবর্তীতে মামলার কাগজপত্রের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে তার কাছে জানতে চাচ্ছে জনতা”৫০০ পিস ইয়াবা কিভাবে ৫০ পিস হয়ে গেল?
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, মামলার স্বাক্ষীদের বক্তব্যেও মিলছে না কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য। একজন স্বাক্ষী বলেন, “আমরা আসলে জানি না ঠিক কত পিস ইয়াবা ছিল। আমাদের শুধু বলা হয়েছে স্বাক্ষী দিতে।”
এমন পরিস্থিতিতে পুরো ঘটনাটি ঘিরে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, হয়রানি বা দুর্নীতির আশঙ্কা থেকে বিষয়টি দৃষ্টান্তমূলক তদন্তের দাবি রাখে।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, যদি সত্যিই ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়ে থাকে, তবে মামলার নথিতে ৫০ পিস লেখা হলো কেন? এটা তদন্তসাপেক্ষ বিষয় এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা প্রমাণের জন্য বিষয়টি খোলাসা করা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী ব্যাখ্যা দেয় এবং আদৌ তদন্ত করে কী ফলাফল তুলে ধরে।
Leave a Reply