মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুষ্টিয়া সরকারি শিশু পরিবার বালিকা । এ অসহায় ও এতিম শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যে চরম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরবরাহকৃত ৯ কেজি মুরগির মাংস সরবরাহ করার কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে মাত্র ৬ কেজি মাংস সরবরাহ করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস আলম এন্টারপ্রাইজ।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিতভাবে খাবারের পরিমাণ কম দেওয়া হচ্ছে। শুধু মুরগির মাংসই নয়, অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর ক্ষেত্রেও একই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিশুরা পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে না, যা তাদের স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “সরকার যে বাজেট দিচ্ছে, তা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে শিশুদের কোনও কষ্ট থাকার কথা নয়। কিন্তু ঠিকাদারের অনিয়মে শিশুরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা গেছে, সরবরাহকৃত পণ্য ও পরিমাণ নিয়ে তদন্তে দেখা গেছে, যেখানে বিল অনুযায়ী ৯ কেজি মুরগির মাংস দেওয়ার কথা, সেখানে ফিজিক্যাল চেক-আপে মাত্র ৬ কেজি মাংস সরবরাহ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে, অনেকেই দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
শিশু পরিবারে থাকা শিশুরা পরিবারহীন ও অসহায়। তারা পুরোপুরি সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাদের খাবার নিয়েই যদি দুর্নীতি হয়, তাহলে এটি মানবতার চরম অবমাননা।
Leave a Reply