
ভোলা প্রতিনিধি:
স্বামীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং সংসারের খরচ না দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন প্রথম স্ত্রী লুচি। মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে মানবাধিকারকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দৌলতখান থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ/মামলাও করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগকারী লুচির দাবি ছিল, তার স্বামী দাঁতের চিকিৎসক শরিফ তাকে নিয়মিত ভরণপোষণ দিতেন না এবং সংসারের প্রয়োজনীয় খরচও ঠিকমতো দিতেন না। এছাড়া তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন।
এদিকে অভিযোগ করার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় লুচির আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ। অভিযোগ রয়েছে, তার মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আগেই মরদেহ দাফন করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও দাফনের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ এবং থানায় দায়ের করা মামলার বিষয়টি সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের সন্দেহের তীর স্বামী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর দিকেও যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফল ছাড়া কারও বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ বা জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ/আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, দাফনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছিল কি না এবং মৃত নারীর পূর্বের অভিযোগের সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তেই মিলবে।
নিহত লুচির মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন এবং তার পূর্বের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply