
দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ ::
দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কোনো অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ পেলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি শ্রেণির তথাকথিত ‘গণমাধ্যমকর্মী’। সংবাদটির সত্যতা, তথ্য-উপাত্ত কিংবা প্রমাণ যাচাই না করেই তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের পক্ষ নিয়ে প্রশংসা, তোষামোদ ও সাফাই গাইতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—ব্যক্তিগত স্বার্থ, সুযোগ-সুবিধা কিংবা প্রভাবশালী মহলের আনুকূল্য পাওয়ার আশায় কেউ কেউ প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হন। অথচ সাংবাদিকতার মূল শক্তি কোনো ব্যক্তি, কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্যে নয়; বরং সত্য উদঘাটন, তথ্য যাচাই এবং জনস্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মধ্যেই নিহিত।
কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু সেই প্রশ্নের জবাব হওয়া উচিত তথ্য-প্রমাণ, যুক্তি ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে—ব্যক্তিগত আক্রমণ, তোষামোদ কিংবা অন্ধ পক্ষপাতের মাধ্যমে নয়।
মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকতা কারও তেল মারা বা ক্ষমতাবানদের মন জোগানোর পেশা নয়। সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো সত্যকে সামনে আনা, অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা এবং জনগণের অধিকার ও স্বার্থের পক্ষে কথা বলা। একজন সাংবাদিক যখন ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষমতাবানদের তোষামোদে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন তিনি শুধু নিজের পেশাগত মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করেন না; একই সঙ্গে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও দুর্বল করে দেন।
তাই প্রকৃত সাংবাদিকতার পরিচয় হতে হবে—সত্যের অনুসন্ধান, তথ্যের যাচাই, প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ এবং জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকার। তোষামোদ নয়, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই হোক সাংবাদিকতার মূলনীতি।
Leave a Reply