
ভেড়ামারা উপজেলা প্রতিনিধি,
নিত্যদিনের কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা মোকারমপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর চরের পদ্মা নদীতে ডিঙি নৌকাডুবিতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে আখ ক্ষেতে কাজ করতে যাওয়ার সময় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
মৃত দুই কৃষক আব্দুর রশিদ (৫৮) ও মামুন হোসেন (২৭)। অন্য দুই সঙ্গী প্রাণে বেঁচে যান।
পদ্মা নদীর শাখা অংশে ডিঙি নৌকাডুবি।
“মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, সকাল সাড়ে ৬টায়।”
“কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, মোকারমপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর চর এলাকায় পদ্মা নদীতে।”
আখ ক্ষেতে কাজ করতে যাওয়ার পথে ডিঙি নৌকা হঠাৎ ডুবে যাওয়ায় এবং রশিদ ও মামুন হোসেন সাঁতার না জানার কারণে।
“চারজন কৃষক মামুনের ছোট ডিঙি নৌকাতে করে নদী পার হচ্ছিলেন, মাঝপথে নৌকাটি ডুবে যায়।”
সাঁতার জানাই পার্থক্য গড়ে দিল!
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ইসলামপুর চর এলাকার আখ ক্ষেতে কাজ করার জন্য আব্দুর রশিদ, মামুন, শরিফুল এবং ইউসুফ একসঙ্গে যাচ্ছিলেন। তারা সবাই মামুনের ছোট ডিঙি নৌকাতে করে পদ্মা নদীর একটি শাখা অংশ পার হচ্ছিলেন। মাঝ নদীতে নৌকাটি হঠাৎ ডুবে যায়।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, শরিফুল ইসলাম ও ইউসুফ আলী সাঁতার জানতেন বলে দ্রুত সাঁতরে নদীর তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। কিন্তু সাঁতার না জানায় কৃষক আব্দুর রশিদ (৫৮) ও মামুন হোসেন (২৭) নদীতে তলিয়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা এসে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল রব তালুকদার ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “সাঁতার না জানায় আব্দুর রশিদ ও মামুন হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। এটি একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা।”
লক্ষীকুন্ডা নৌ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, “ডিঙি নৌকাটি পারাপারের সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।”
নদীর তীরে শোকের মাতম
পদ্মা নদীর পাড়ে এই দুর্ঘটনার পর পরই শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশেষ করে মামুন হোসেন, যার বয়স মাত্র ২৭ বছর, তার মৃত্যুতে স্থানীয় তরুণদের মাঝেও গভীর বিষাদ তৈরি হয়েছে। কৃষি কাজই ছিল তাদের জীবিকা, আর নদীই ছিল তাদের নিত্যদিনের পথ। এই ঘটনা আবারও নদীমাতৃক বাংলাদেশে কৃষকদের জীবনযাত্রার ঝুঁকি এবং নদী পারাপারে নিরাপত্তার অভাবকে সামনে এনেছে।
Leave a Reply