মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যরো প্রধান।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের শালঘর মধুয়া এলাকায় কালী নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু স্থানীয়দের জন্য এখন আশীর্বাদ নয়, বরং গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুটি নির্মাণের ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুতে উঠতে হলে প্রথমে বাঁশের দোলন ও দীর্ঘ মাচা পেরোতে হয়। নদীর পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ ও পূর্ব প্রান্তে ৩৫ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো পার হয়ে তবেই ওঠা যায় ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্যের মূল সেতুতে। আবার সেতু থেকে নামার সময়ও একইভাবে বাঁশের মাচা বেয়ে নামতে হয়। এতে নারী,শিশু ও বৃদ্ধদের ভোগান্তির সীমা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুল বলেন,সেতু হয়েছে,কিন্তু জনগণের উপকার হচ্ছে না। বরং বাঁশের মাচা দিয়ে উঠানামা করতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সেতু–কালভার্ট কর্মসূচির আওতায় ২৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৩২ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মিত হয়। কিন্তু নদীর প্রস্থ প্রায় ৪০০ ফুট হওয়ায় সেতুটি তুলনামূলকভাবে ছোট, ফলে বর্ষাকালে পানির চাপে সংযোগ সড়ক ভেসে যায়। নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ,বানিয়াখোড়ি,নিতাইলপাড়া, ভোরুয়াপাড়া, কুঠিপাড়া,জোয়ারদারপাড়া, বংশীতলা, রাস্তাপাড়া,শালঘর মধুয়া,কাচারীপাড়া,দুধকুমড়া ও খালবাজারসহ আশপাশের গ্রামগুলোর মানুষ এই সেতু ব্যবহার করে। কিন্তু সড়ক না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজগুলোতে চরম অসুবিধায় পড়তে হয়।
কৃষক আজিজুল হক বলেন,নদীর মাঝখানে সেতু,দুই পাশে রাস্তা নাই। মাথায় ফসল নিয়ে পার হতে গেলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এক যুগ ধরেই এই কষ্ট সহ্য করছি।
বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হক নবা বলেন,সেতুটি ১২ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। একবার মাটি দিয়ে রাস্তা করা হলেও বর্ষায় নদীর পানির চাপে তা ভেঙে যায়। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি,দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চলছে।
কুমারখালীর ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোহরাব হোসেন বলেন,সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তা নির্মাণ করা হবে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হোক,যাতে সরকারের ব্যয় করা অর্থ জনকল্যাণে পরিণত হয় এবং দীর্ঘ ১২ বছরের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।
Leave a Reply