
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ। কিন্তু কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে এ পরিষদের কার্যালয় পরিচালিত হচ্ছে স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেনের নিজ বাড়ি থেকে! এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার ১০ জুলাই দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এলাকার সাধারণ নাগরিক তাদের সেবা গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আসেন। চেয়ারম্যানের বাড়ির ঠিকানা—বানিয়াপাড়া, কয়া ইউনিয়ন। অথচ সরকারি কোনো ভবনে নয়, পরিষদের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে তার পারিবারিক আবাসস্থল থেকে। প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি তহবিল ও স্থাপনার যথাযথ ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত বাড়িকে অফিস বানিয়ে সাধারণ জনগণকে কেন হয়রানির মুখে ফেলা হচ্ছে? স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কয়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় চেয়ারম্যানের নিজ বাড়িতে চলে আসছে। পত্রপত্রিকায় একাধিকবার এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।একজন ভুক্তভোগী নাগরিক বলেন, “আমরা সরকারি অফিসে সেবা নিতে যাই, অথচ যেতে হয় ব্যক্তিগত বাড়িতে। এতে করে আমরা নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতা ও বিব্রতবোধ করি। এটা কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না।” কয়া ইউনিয়নের মোট আয়তন ৪৬০৮ একর বা ১৯.৬১ বর্গকিলোমিটার। এখানে বসবাসরত পরিবার সংখ্যা ৫৫০৯টি। কুমারখালী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে পদ্মা ও গড়াই নদীর তীরে এই ইউনিয়নের অবস্থান। উত্তর দিকে পদ্মা নদী ও ঘোষপুর, দক্ষিণে চাপড়া ইউনিয়ন, পূর্বে শিলাইদহ এবং পশ্চিমে হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের কান্তিনগর ও বোয়ালদহ গ্রাম। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নের পরিষদ যদি নিজস্ব ভবনবিহীন থাকে এবং কার্যালয় যদি চেয়ারম্যানের বাসভবনে চলে—তবে প্রশাসনের নজরদারির প্রশ্ন আবারও উঠবে বৈকি। স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের দাবি, কয়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়কে অবিলম্বে একটি নির্ধারিত সরকারি ভবনে স্থানান্তর করতে হবে। পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।
Leave a Reply