
সাতক্ষীরা অফিসঃ
খুলনা ও যশোর অঞ্চলে স্বর্ণ পাচার সংশ্লিষ্ট নানা অভিযোগে আলোচিত সোনাব্যবসায়ী মীর শাহিন সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। সেখানে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করলেও স্থানীয়দের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মীর শাহিন পাটকেলঘাটার সাইকেল মিস্ত্রি জামাল উদ্দীনের ছেলে। স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি ‘তুবা পাইপ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা গড়ে তোলেন। পাশাপাশি ‘মুসলিম জুয়েলার্স’ নামে একটি স্বর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে তার।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগে যশোরে স্বর্ণসহ আটক হন শাহিন। পরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি ছাড়া পান। এর প্রায় এক বছর পর খুলনাতেও আবার স্বর্ণসহ ধরা পড়ার ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেও একইভাবে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে শাহিন যে বিলাসবহুল গাড়িটি ব্যবহার করেন, যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা, সেটি স্বর্ণ পাচারের কাজে ব্যবহৃত হয় বলে তাদের সন্দেহ।
তবে সংবাদ সম্মেলনে মীর শাহিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার ব্যবসা বৈধ। আমাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং এর পেছনে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীদের হাত রয়েছে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একাধিকবার স্বর্ণসহ আটকের অভিযোগ থাকার পরও কীভাবে শাহিন প্রতিবারই ছাড়া পান—এ নিয়ে তদন্তের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
Leave a Reply