1. mh01610093622@gmail.com : dainikdakshineroporadh :
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন
নোটিশ :
মঠবাড়িয়ায় ইউএনওর হস্তক্ষেপে অবশেষে পরীক্ষায় বসছে সেই বিথী জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের পর সহিংসতায় দেড় হাজারের বেশি প্রাণহানি, ধর্ষণ-নির্যাতন ও মব সহিংসতায় উদ্বেগজনক মদনপুরবাসীর আস্থার প্রতীক: সমাজসেবক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন চকেট: কুষ্টিয়ার হরিপুর পদ্মার চরে রক্তাক্ত রাত কাকন বাহিনীর হামলায় ওসিসহ ৫ নৌপুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ কুঞ্জেরহাট বাজারে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত মনির মাতব্বর—জনমনে তীব্র ক্ষোভ মঠবাড়িয়ায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ চাচার বিরুদ্ধে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে “কন্যা সাহসীকা” সম্মাননা পেলেন জিয়ানগরের তহমিনা কুষ্টিয়া ৩আসনের এমপি মূফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। কুষ্টিয়ায় ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন সাংবাদিক আল-আমিন সরদারের নামে উকিল নোটিশ ও হুমকির অভিযোগে জিডি
সংবাদ শিরোনাম:
মঠবাড়িয়ায় ইউএনওর হস্তক্ষেপে অবশেষে পরীক্ষায় বসছে সেই বিথী জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের পর সহিংসতায় দেড় হাজারের বেশি প্রাণহানি, ধর্ষণ-নির্যাতন ও মব সহিংসতায় উদ্বেগজনক মদনপুরবাসীর আস্থার প্রতীক: সমাজসেবক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন চকেট: কুষ্টিয়ার হরিপুর পদ্মার চরে রক্তাক্ত রাত কাকন বাহিনীর হামলায় ওসিসহ ৫ নৌপুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ কুঞ্জেরহাট বাজারে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ, অভিযুক্ত মনির মাতব্বর—জনমনে তীব্র ক্ষোভ মঠবাড়িয়ায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ চাচার বিরুদ্ধে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে “কন্যা সাহসীকা” সম্মাননা পেলেন জিয়ানগরের তহমিনা কুষ্টিয়া ৩আসনের এমপি মূফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। কুষ্টিয়ায় ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন সাংবাদিক আল-আমিন সরদারের নামে উকিল নোটিশ ও হুমকির অভিযোগে জিডি

জেলা শহরের সরকারি হাসপাতাল: স্বাস্থ্যসেবা নাকি মৃত্যুফাঁদ?

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৬০ বার ভিউ

মোঃ মনিরুল ইসলাম সদর উপজেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া

দেশের প্রতিটি জেলায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে সরকারি হাসপাতাল। কাগজে-কলমে এগুলোতে আধুনিক চিকিৎসার সব সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তৃণমূল মানুষের চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এই হাসপাতালগুলো এখন স্থানীয় জনগণের কাছে ‘মৃত্যুফাঁদ’ এবং ‘রেফার কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। সর্দি-জ্বরের মতো সাধারণ রোগ ছাড়া গুরুতর কোনো রোগের চিকিৎসা এখানে হয় না বললেই চলে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতের এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

নামেই হাসপাতাল, চিকিৎসায় কেবলই রেফার
জেলা হাসপাতালগুলোর সবচেয়ে বড় এবং সাধারণ চিত্র হলো ‘রেফার’ সংস্কৃতি। দুর্ঘটনা, হৃদরোগ, স্ট্রোক, বা গর্ভকালীন জটিলতার মতো গুরুতর কোনো রোগী আসলেই কর্তব্যরত চিকিৎসকের একটাই পরামর্শ তাড়াতাড়ি ঢাকা বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে নিয়ে যান। এতে রোগীর জীবনের ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা মূল্যবান সময় নষ্ট হয় পথের দীর্ঘ যানজটে। অনেক রোগী পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতাটুকুও অনেক সময় দেখা যায় না। হাসপাতালগুলো যেন স্রেফ একটি গেটওয়ে, যেখান থেকে রোগীদের বড় শহরের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ থাকলেও বাস্তবে অনেক পদই শূন্য থাকে। আবার অনেক চিকিৎসক থাকলেও তাদের কর্মস্থলে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। নার্স, টেকনিশিয়ান এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরও তীব্র সংকট বিদ্যমান। অন্যদিকে, সরকারের টাকায় কেনা কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি হয় বিকল হয়ে পড়ে আছে, নয়তো সেগুলো চালানোর মতো দক্ষ জনবল নেই। আইসিইউ, ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান মেশিনের মতো জরুরি সরঞ্জাম থাকলেও তা তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা এক ধরনের জাতীয় অপচয়।

অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ হাসপাতালগুলোতে অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতি একটি ওপেন সিক্রেট। রোগীদের খাবারের নিম্নমান, ওয়ার্ডগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জবাবদিহিতার অভাবে কর্তাব্যক্তিরা উদাসীন থাকেন এবং সাধারণ মানুষ তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

জনগণের টাকার অপচয় এবং ঠাট্টা: সরকার স্বাস্থ্যখাতে বিশাল অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ করে। জনগণের করের টাকায় হাসপাতাল নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়। কিন্তু জনগণ যখন সেবা পায় না, তখন এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচকে একটি নিষ্ঠুর ‘ঠাট্টা’ বলে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। যদি সর্দি-জ্বরের চিকিৎসাই চূড়ান্ত গন্তব্য হয়, তবে এত বড় অবকাঠামো এবং লোকবল রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

স্বাস্থ্যসেবায় চরম বৈষম্য:এই ভেঙে পড়া ব্যবস্থার কারণে স্বাস্থ্যসেবায় একটি মারাত্মক বৈষম্য তৈরি হয়েছে। যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে, তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালে বা বিদেশে চলে যান। কিন্তু দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের একমাত্র ভরসা এই সরকারি হাসপাতাল। যখন এই আশ্রয়টুকুও কেড়ে নেওয়া হয়, তখন তাদের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর প্রহর গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এটি যেন স্পষ্ট করে দেয় যে, সুচিকিৎসা কেবল বিত্তবানদের জন্যই সংরক্ষিত।

বিকেন্দ্রীকরণ: স্বাস্থ্যসেবা ঢাকা বা বিভাগীয় শহরকেন্দ্রিক না রেখে জেলা হাসপাতালগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হবে। জরুরি ও জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিত করতে হবে।

জবাবদিহিতা: চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ: হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সচল রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে।

জনবল নিয়োগ: শূন্যপদে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে হবে এবং তাদের জন্য জেলা শহরে থাকার মতো উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সূচক হলো তার জনগণের স্বাস্থ্য। জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর এই বেহাল দশা আমাদের সার্বিক অগ্রগতির পথে একটি বড় বাধা। এই‘মৃত্যুফাঁদ’গুলোকে সত্যিকারের সেবাকেন্দ্রে পরিণত করতে না পারলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার কেবল কর্ক জেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সরকারের এখনই উচিত এই বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া, নইলে জনগণের আস্থার শেষ কণাটুকুও হারিয়ে যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com