
স্টাফ রিপোর্টার,
মোঃ হারুনুর রশীদ চৌধুরী
তীব্র অসুস্থতা সত্ত্বেও ছুটি না পেয়ে কারখানায় কাজ করার সময় পোশাক কর্মকর্তা কর্তৃক বাকবিতণ্ডা ও ধমকের শিকার হয়ে সুমি আক্তার (৩০) নামে এক নারী পোশাকশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গাজীপুরের ‘আগামী অ্যাপারেলস’ (ডেকো গ্রুপ)-এর কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে কর্মকর্তার অসংবেদনশীল আচরণ এবং সহকর্মীরা উদ্ধার করার আগে পর্যন্ত দায়িত্বশীলদের নিষ্ক্রিয়তার দৃশ্য প্রকাশ পাওয়ার পর শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল থেকেই তীব্র শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সেলাই মেশিনে কাজ করছিলেন সুমি আক্তার। আগের রাতেই তিনি তাঁর সন্তানকে কারখানা থেকে ছুটি না পাওয়ার কথা জানিয়ে বাধ্য হয়ে কাজে যোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুযায়ী বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করার কথা থাকলেও বিকেল ৫টা ১ মিনিটে এক পোশাক কর্মকর্তা অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে তাঁর সেলাই মেশিনের টেবিলে থাপ্পড় মারেন এবং হাতের কাজ করা কাপড় ধমক দিয়ে ফেলে দেন।
কারখানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, উক্ত কর্মকর্তা উচ্চবাচ্য করে তেড়ে আসার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সুমি আক্তার কারখানার ফ্লোরে ঢলে পড়েন। মেয়েটি লুটিয়ে পড়ার পরও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা দুই পাঞ্জাবি পরিহিত কর্মকর্তা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি। পরবর্তীতে অন্যান্য সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমি আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।
পোশাক খাতের সুশীল সমাজ ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো এ ঘটনাকে শ্রম আইনের লঙ্ঘন এবং মৌলিক মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে অভিহিত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার কয়েকজন কর্মী জানান, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও অসুস্থতাজনিত ছুটির আবেদনে কর্তৃপক্ষের অসংবেদনশীলতা পোশাক খাতে নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বশীল কারও কোনো জোরালো পদক্ষেপ বা মন্তব্য জানা যায়নি। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষার অধিকার এবং তদারকি কর্মকর্তাদের আচরণিক পেশাদারিত্বের বিষয়টিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
Leave a Reply