
বাহাদুর চৌধুরী ::
বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলার সংসদ সদস্যের একটি বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বক্তব্যের একটি অংশ কেটে বা প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপনের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, কোনো কাটা-ছেঁড়া ভিডিও বা আংশিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে মতামত দেওয়ার আগে সম্পূর্ণ বক্তব্যটি শোনা উচিত। এতে বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।
জানা যায়, যে বক্তব্যটি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে, সেটি সাম্প্রতিক নয়; প্রায় দুই মাস আগে দেওয়া হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে, ওই বক্তব্যের পর থেকে সংসদ সদস্যের নির্দেশে কোথাও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না। অভিযোগকারীদের মতে, এমন কোনো তথ্য বা প্রমাণ এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।
সম্পূর্ণ বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সংসদ সদস্য স্পষ্টভাবে বলেছেন যে অবৈধ বালু উত্তোলন কোনোভাবেই করতে দেওয়া হবে না। তিনি অবৈধ কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে আইনসম্মত ও সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন হলে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
বক্তব্যে তিনি দৌলতখান ও গঙ্গাপুর এলাকার দুটি সম্ভাব্য স্থানের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নদীর নাব্যতা রক্ষা, চর অপসারণ এবং নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সরকারি অনুমোদন ও উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। দেশের বিভিন্ন নদীমাতৃক এলাকায়ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বক্তব্যের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিচ্ছিন্ন করে এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে। অথচ সম্পূর্ণ বক্তব্য শুনলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, সেখানে অবৈধ বালু উত্তোলনের অনুমতি বা সমর্থনের কোনো বক্তব্য নেই।
সচেতন মহলের মতে, মতভেদ গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক বিষয়। তবে কোনো বক্তব্যের আংশিক অংশ প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে মতামত দেওয়াই দায়িত্বশীলতার পরিচয়। তাই গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রকৃত তথ্য জানার জন্য সম্পূর্ণ বক্তব্য শোনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply