
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়া জেলার শান্ত জনপদ হরিপুরে জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গভীর রাতে সংঘটিত অগ্নি সংযোগের ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে উদ্বেগ ও আতঙ্কের ছায়া।
দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে বসতঘর,আসবাবপত্র ও খাদ্যশস্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।
প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি
স্থানীয় সূত্র জানায়,জমিজমা নিয়ে চলমান বিরোধের প্রেক্ষাপটে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কে বা কাহারা রাতের আঁধারে একটি পরিবারের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ঘরের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এলাকাবাসীর দ্রুত সাড়া ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।
পাশের জমির মালিক দেলোয়ার হোসেন জানান,জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল আমার সাথে,আমার ক্রয় কৃত জমির একাংশ পাশের জমের মধ্যে মেপে পাওয়া যায়।
গ্রাম পর্যায়ের মাতুব্বরদের অনুরোধ অংশবিশেষ অর্ধেক জমি আমি ছেড়ে দিয়েছি,তবুও সেটা মেনে নিচ্ছেন না।
একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ,পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যেই এ অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
দেলোয়ার হোসেন দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ পত্রিকাকে বলেন আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বলেছিলাম আপনারা মামলা করেন আমি আপনাদেরকে সাহায্য করবো। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আমাকে বলেছিল আমরা দেখিনি কে বা কাহারা আগুন ধরিয়াছে কার বিরুদ্ধে মামলা করব।
এখন উল্টা আমার বিরুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে সুফিয়া(৬০)স্বামী আনার(৬৫)ছেলে সাইদুল ও মেয়ে আসমা,আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
ঘটনার পর এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক আখ্যা দিয়ে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা বলেন,জমি-সংক্রান্ত বিরোধের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতা সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থার ওপর গভীর আঘাত হানে।
পুলিশ জানিয়েছে,লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
শান্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ জনপদে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কেবল একটি পরিবারের বসতঘরই পুড়িয়ে দেয়নি,পুড়িয়ে দিয়েছে নিরাপত্তা ও নিশ্চিন্ত জীবনের অনুভূতিকেও। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা—দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে, দোষীরা শাস্তি পাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবে যথাযথ সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।
Leave a Reply