
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়ার দিশা টাওয়ারের হল রুমে এ ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া-৩ (আসনের) ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার।
ঘোষিত ইশতেহারে মূল বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয় :
১. তরুণ ও বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
২. শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ সিড ফান্ড এবং জামানত ছাড়া সহজ ঝঋণের ব্যবস্থা করা।
৪. শিক্ষিত বেকার যুবকদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য চায়নিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবী ও ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। শিক্ষার প্রসার ও মান উন্নয়ন।
৫. স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো ও ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিতকরণসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে এআই ভিত্তিক কানেক্টেড স্কুল ও লার্নিং সিস্টেম চালু করা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনবল তৈরির জন্য কুষ্টিয়াতে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।
৬. শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, রেল যোগাযোগ, অবকাঠামো ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের
উদ্যোগ নেওয়া। কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজকে জাতীয়করণ করা।
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ও কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজে যুগোপযোগী নতুন নতুন বিষয়ে বিভাগ খোলা।
৭. ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর মান উন্নয়ন এবং জরুরি সার্ভিসের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা।
৮. কুষ্টিয়ার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসমূহের মধ্যে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) এর মাধ্যমে জনগণের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ।
৯. কুষ্টিয়া পৌর অঞ্চলের জলবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খাল পুনঃখনন।
১০. কুষ্টিয়া শহরের যানজট নিরসনে রেললাইনকে কুষ্টিয়া শহরের দক্ষিণে স্থানান্তরিত করে। কুষ্টিয়া ইস্ট ও কুষ্টিয়া ওয়েস্ট দুটি স্টেশন স্থাপনসহ পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ। গড়াই নদীতে ঘোড়াঘাটে নতুন ব্রিজ নির্মাণ ত্বরান্বিত করা।
১১. গড়াই নদীর দুই ধার দিয়ে ১০০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করে হরিপুর ব্রিজ, প্রস্তাবিত ঘোড়াঘাট ব্রিজ ও মাসুদ রুমি সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত করে কুষ্টিয়া শহরকে গড়াই নদীর উত্তর পাশে সম্প্রসারিত করা এবং শহরবাসীর জন্য বিনোদন স্পটে রূপান্তরিত করা। কুষ্টিয়া শহর থেকে শিলাইদহ রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং কুষ্টিয়ার সাথে পাবনা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে শিলাইদহ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে নতুন ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে টুইন সিটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া, যেন কুষ্টিয়া জেলা এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও পর্যটনের কেন্দ্রে পরিণত হয়। কুষ্টিয়াকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেওয়া।
১২. এ ছাড়া সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক, জুয়া, নারী নির্যাতন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার এবং ধর্মীয় সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।
১৩. কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি, কুষ্টিয়া মেহেরপুর, কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা সড়ক নদী শাসন ও পরিবেশ রক্ষা।
১৪. গড়াই নদী খননের মাধ্যমে নৌপথে মংলা বন্দরের সাথে যোগাযোগ।
১৫. কালি নদী খননের মাধ্যমে মৃত নদীকে পুনর্জাগরণ করে অ
সুযোগ সৃষ্টি করা।
১৬. ইতোমধ্যে চলমান ক্লিন কুষ্টিয়া গ্রিন কুষ্টিয়া (KK-GK) ও গ্রামে সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তর।
১৭. শিল্প বর্জ্য ও মিউনিসিপ্যাল বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য রিসাইকেল প্লান্ট স্থাপন করা।
১৮. জিকে সেচ প্রকল্পকে সংস্কার করে অত্র এলাকার কৃষির স্বর্গরাজ্য পুনরুদ্ধার করা। কুষ্টিয়াতে একটি নৌবন্দর স্থাপন করা। কুষ্টিয়াকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলা।
১৯. কুষ্টিয়ার ভৌগোলিক অবস্থা, ত্রিমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমানবন্দর
ও নৌবন্দরের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কুষ্টিয়াকে শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২০. দেশের অন্যতম প্রধান চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর তৈরি করে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এ অঞ্চলকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা।
২১. কুষ্টিয়ার ভাদালিয়ায় অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে আধুনিকায়ন ও প্রসারের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করা।
২২. শক্তিশালী সরকারি খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তোলার স্বার্থে এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতসমুহে খাদ্যশস্য বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য কুষ্টিয়াতে একটি বৃহত্তর সিএসডি খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা।
২৩. বন্ধ মোহিনী মিল ও সুগার মিলের বিষয়ে উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া।
২৪. কুষ্টিয়াকে অফিসিয়ালি সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করা।
২৫. সংস্কৃতি বিকশিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনসহ নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
২৬. সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান।
২৭. কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।
২৮. পৌরসভার ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন ডিত্তিক খেলার মাঠ তৈরি ও উন্নয়নের ব্যাবস্থা করা।
২৯. কুষ্টিয়াতে বিভিন্ন ধরনের আন্তজেলা টুর্নামেন্টের আয়োজন করা।
৩০. ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন টিম ও খেলোয়াড়দের পৃষ্ঠপোষকা প্রদান।
৩১. সারা বছর বিভিন্ন ধরনের খেলা চলমান রাখার ব্যবস্থা করা।
এ ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ।
এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীবৃন্দ।
Leave a Reply