
মো:সাবিত হোসাইন স্টাফ রিপোর্টার
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেছেন,
`গণভোটের জায়গায় আমাদের কোনে নিরপেক্ষ জায়গা নেই। গণভোটে না ভোট দেওয়া মানে চব্বিবের বিরুদ্ধে যাওয়া। না ভোট দেওয়া মানে স্বৈরাচারের পক্ষে দাড়ানো’।
রাষ্ট্র সংস্কার চাইলে হ্যাঁ ভোটের বিকল্প নেই। আমরা আর কখনো স্বৈরাচারী শাসন দেখতে চাই না। বিগত ১৭ বছর একটি দল ক্ষমতায় থেকে স্বৈরশাসনের চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলো। গুম,খুন করে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিলো। গণতন্ত্র বলে দেশে কিছুই ছিলো না। অত্যাচার, নিপীড়ন চালিয়ে দেশের মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলো। আর এসবের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলো তরুণ -তরুণীরা। ছোট ছোট বাচ্চারা জীবন দিয়ে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়েছে। আমরা একটা নতুন দেশ পেয়েছি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোট প্রচার এবং ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ আরো বলেন, গণভোট হচ্ছে আগামী রাষ্ট্রের কাঠামো তৈরির একটি প্রক্রিয়া। বহুদিনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার একটি পদ্ধতি। দীর্ঘদিন কেউ ক্ষমতায় থাকলে সেই সরকার স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে। যেমনটি বিগত ১৭ বছর হয়েছিলো। তিনি বলেন, নারী বা অন্যকোন কোটা নয়, আমরা মেধায় এগিয়ে যেতে চাই। শিক্ষাঙ্গনে ইতোমধ্যে নারীরাই মেধায় এগিয়ে রয়েছে।
উপদেষ্টা আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে সকলের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ অত্যাবশ্যকীয়। একই সাথে সব রাজনৈতিক দল, এনজিও প্রতিনিধি,ইমামসহ সকলকে গণভোট প্রচারে এগিয়ে আসতে হবে। হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করতে হবে। এদেশে যাতে আর কখনো ফ্যাসিস্টদের উত্থান না ঘটে সেটার জন্য হ্যাঁ ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের বিপ্লবে ১৪০০ তাজা প্রাণ ঝরেছে। প্রায় ৩০ হাজার বাচ্চা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এদের রক্ত যেনো বৃথা না যায়। একটি সুন্দর, সুখী, গণতান্ত্রিক ও স্বৈরশাসনমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ গড়তে গণভোটের বিকল্প নেই। সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে চলুক।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সাইদুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাত রায়, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল,সিভিল সার্জন ডা:কামরুজ্জামান সহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ বলেন,
আগামীতে যেন কোনো ফ্যাসিস্ট সৃষ্টি না হয় সেজন্যই গণভোট।
গণভোট হলো এমন মৌলিক বিষয় নেয়া হয়েছে যেখানে প্যাকেজ হিসেবে আপনি একমত হলে হ্যা ভোট দিবেন আর একমত না হলে না ভোট দিবেন। আমরা হ্যাঁ এর পক্ষে কথা বলতে চাই।
দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই জুলাই সনদ গৃহীত হয়েছে। ফলে নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, এ সনদ বাস্তবায়নের দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ও তরুণদের যে আকাঙ্ক্ষা, তার বিপরীতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
Leave a Reply