
এম মনিরুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের জেলে ও বাওয়ালদের নিরাপদ ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা এবং হরিণ শিকার সম্পূর্ণভাবে নির্মূলের দাবিতে জেলে, বাওয়াল ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে এক জনতাবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ এলাকায় আয়োজিত এই মানববন্ধনে,বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।সিডিও ইয়ুথ টিমের সিনিয়র ভলেন্টিয়ার হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় ও সুন্দরবন প্রেসক্লাব সভাপতি বিল্লাল হোসেন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন,বনজিবি মালতি রানি, ওয়াজেদ আলী, সিডিও ইয়ুথ টিমের সদস্য শাহারিয়ার হোসেন, সিনিয়র সদস্য মোঃ শাহিন হোসেন, সদস্য নাজমুল হোসেন প্রমুখ।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সুন্দরবনের জেলে ও বাওয়ালরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন নির্ভর পেশায় যুক্ত থাকলেও তারা নিরাপত্তা, বিকল্প কর্মসংস্থান ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।জনতাবন্ধনে বক্তারা জানান, দস্যুতা, বন্যপ্রাণীর আক্রমণ ও নানা প্রাকৃতিক ঝুঁকির মধ্যে থেকেও জেলে-বাওয়ালরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।অথচ অপরিকল্পিত দমন-পীড়ন ও হয়রানির কারণে প্রকৃত জেলে-বাওয়ালরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন,আর সেই সুযোগে হরিণ শিকারিরা গোপনে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় হরিণ শিকার নির্মূল করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য প্রকৃত জেলে-বাওয়ালদের আলাদা করে চিহ্নিত করা, নিরাপদ পাস-পরমিট ব্যবস্থা চালু করা এবং বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করার দাবি জানান তারা।
জনতাবন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়—সুন্দরবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জেলে-বাওয়ালদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হরিণ শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার করা হোক।জনতাবন্ধন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষে অংশগ্রহণকারীরা, সুন্দরবন রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধান দাবি ও সমস্যা:
নিরাপদ জীবিকা-বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অবৈধ কার্যকলাপের কারণে জেলেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, ফলে জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়ে।
হরিণ শিকার ও অপরাধ দমন: বিষ প্রয়োগে মাছ ধরা ও হরিণ শিকারের মতো অপরাধ বন্ধ করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং বন বিভাগের টহল ও আইন প্রয়োগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
বিকল্প কর্মসংস্থান- নদী ও বননির্ভরতা কমাতে কাঁকড়া ও চিংড়ি চাষ,কাগজের প্লেট তৈরি ইত্যাদির মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়তা- সুন্দরবন বন্ধের সময় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
প্রশাসনের পদক্ষেপ- বনদস্যু নির্মূল, টহল বৃদ্ধি, এবং জেলে-বাওয়ালিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিস্তৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
Leave a Reply