
ভোলা জেলার রাজাপুর ৯নং ওয়ার্ডে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ছাত্রদল সভাপতি পদপ্রার্থী সিফাত নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ঘটনাটি সংঘটিত হয় তার মায়ের চোখের সামনে এবং তার চাচাতো ভাই নিশাতের উপস্থিতিতে। এ মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহত সিফাতের মা নিজে বাদী হয়ে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং জবানবন্দি প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি একটি কুচক্র মহল এই সংবেদনশীল ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নিহতের মাকে দিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনই একটি ভিডিও বক্তব্য নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে।
এ প্রেক্ষিতে আজ রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন—
“সিফাত হত্যাকাণ্ড নিয়ে যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়, তারা ভুল পথে এগোচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। নিহতের মা নিজেই জবানবন্দি দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। সকাল এক কথা, দুপুরে আরেক কথা, রাতে ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা সফল হবে না।”
তিনি আরও বলেন, মামলাটির নিরপেক্ষ, পেশাদার ও গভীর তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব গ্রহণ করা হবে না।
ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা আশ্বাস দিয়ে বলেন—
“প্রকৃত অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আবার তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় কোনো নির্দোষ ব্যক্তি অযথা মামলায় জড়িত, তাহলে তাদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা, মানুষকে হয়রানি করা নয়।”
সচেতন মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সুস্পষ্ট অবস্থান সিফাত হত্যা মামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপপ্রচার ও রাজনৈতিক অপব্যবহারের সকল অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে।
Leave a Reply