
হাসান হৃদয়
লালমোহন,
ভোলার লালমোহন ধলীগৌর নগর ইউনিয়ন, থেকে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৩ জেলে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা স্থানীয় পরিবারগুলোকে ব্যাপক উদ্বেগে ফেলেছে। ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফারুক মাঝির মালিকানাধীন ‘মা–বাবার দোয়া’ নামের ট্রলিংবোটটি ১২ দিন আগে সাগরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। যাত্রার ছয় দিনের মাথায় তীরে ফেরার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ নভেম্বর দুপুরে ধলীগৌরনগরের দলিল মাস্টার বাজার এলাকা ও বাতিরখাল ঘাট থেকে মোট ১৩ জেলে ট্রলারে ওঠেন। পরদিন তারা চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্যঘাটে প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহ করে গভীর সাগরের উদ্দেশ্যে আবার যাত্রা করেন। এরপর আর কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি ট্রলারের। ফোন সংযোগ বন্ধ থাকায় এবং কোনো নৌকা বা ট্রলার থেকে খবর না আসায় স্বজনদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেছে।
নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে রয়েছেন—মো. মাকসুদুর রহমান, মো. খোকন, মো. হেলাল, মো. শামিম, মো. সাব্বির, মো. সজিব, মো. জাহাঙ্গীর, মো. নাছির মাঝি, আব্দুল মালেক, মো. ফারুক, মো. মাকসুদ, মো. আলম মাঝি ও মো. ফারুক—মোট ১৩ জন।
নিখোঁজ জেলে খোকনের স্ত্রী রিপা বেগম বলেন,“আমার স্বামী নদী–সাগরে মাছ ধরে সংসার চালান। এখন ১২ দিন ধরে কোনো খবর নেই। বাচ্চাদের দেখবো কীভাবে, বুঝতে পারছি না। শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করছি যেন সবাই সুস্থভাবে ফিরে আসে।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার বলেন,“এ ঘটনায় কোনো জিডি হয়নি। তারপরও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ বলেন,“নিখোঁজের খবর পেয়েছি। কতজন জেলে নিখোঁজ—তা নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে।”স্বজনরা দিন-রাত ঘাটে অপেক্ষা করছেন।
Leave a Reply