
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
আট বছর ধরে যে জিনিস ব্যবহার করে বিল ৬০০ টাকার বেশি ওঠেনি, সেই একই জিনিস ব্যবহার করে এক মাসে বিল দ্বিগুণ হয়ে গেল কীভাবে?ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে প্রশ্নটি কুষ্টিয়ার এক সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকের।
পল্লী বিদ্যুতের জুন মাসের ভুতুড়ে বিল হাতে পেয়ে হতবাক তিনি। এর প্রতিকার চাইতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পেয়েছেন শুধু দায়সারা জবাব আর দুর্ব্যবহার।
ভুক্তভোগী ওই গ্রাহক জানান, তার বাড়িতে একটি ফ্রিজ, দুটি ফ্যান, দুটি লাইট ও একটি স্মার্ট টিভি ব্যবহৃত হয়। গত আট বছর ধরে শীতকালে তার বিল ৩০০-৪০০ টাকা এবং গরমকালে সর্বোচ্চ ৪০০-৬০০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু জুন মাসে হঠাৎ করেই প্রায় দ্বিগুণ বিলের একটি কপি তার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এই অস্বাভাবিক বিলের বিষয়ে জানতে তিনি কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ হেড অফিসে যোগাযোগ করেন। সেখানে বিল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি গ্রাহকের কথা আমলে না নিয়ে সাফ জানিয়ে দেন, “আপনি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন, তাই বিল বেশি এসেছে।
গ্রাহক বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তিনি নতুন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করেননি এবং তার বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
কিন্তু কর্মকর্তারা একই কথা বারবার বলতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে তার সঙ্গে ভালোভাবে কথাও বলেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর প্রশ্ন, “যদি মিটারেই সমস্যা থাকে বা রিডিংয়ে ভুল হয়, তবে তার দায় কেন গ্রাহককে নিতে হবে?
বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিতে এক মাসে কীভাবে বিদ্যুৎ খরচ দ্বিগুণ হতে পারে, তার কোনো সদুত্তর তারা দিতে পারেননি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষের এমন দায়সারা ও অসৌজন্যমূলক আচরণে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? তাহলে কি আমাদের এটাই ভেবে নিতে হবে যে,পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কিছু কর্মকর্তা ইচ্ছে করেই গ্রাহকদের হয়রানি করছেন এবং বিল নিয়ে কারসাজি করছেন?
এই ঘটনাটি কুষ্টিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের বিলিং সিস্টেম ও গ্রাহকসেবার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
Leave a Reply