
বাহাদুর চৌধুরী,,,
ভোলা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নিকট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচারের অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভোলা-২ আসনের সর্বস্তরের জনগণ এবং বিএনপি নেতা-কর্মীরা।
এ প্রসঙ্গে বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সরোয়ার আলম খান সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে দেওয়া অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ।
রবিবার (৬ জুলাই ২০২৫) দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সামনে সাক্ষাৎকারে আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেলিম নামের এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে জমি দখলের যে অভিযোগ করেছেন, তা মনোযোগ দিয়ে শুনে এবং অনুসন্ধান করে জানতে পারেন—সেলিম তার নির্বাচনী এলাকার (ভোলা-২) বাসিন্দা নন। বরং তিনি ভোলা সদর-১ আসনের বাসিন্দা এবং সাবেক এমপি ও মন্ত্রী মরহুম মোশারেফ হোসেন শাহজাহানের বাড়ির পাশেই তার বাড়ি।
হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, “সেলিমের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে তারই ভাতিজির জামাইয়ের সঙ্গে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়তো তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, বা প্ররোচিত করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করানো হয়েছে। এটা নিছক পারিবারিক ইস্যু, কিন্তু একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা জানে না ভোলা-২ আসনে আমার জনপ্রিয়তা কত গভীর।”
তিনি আরও বলেন, “ওই ব্যক্তি আমার ভোটার নন, এমনকি আমার এলাকার বাসিন্দাও নন। একজন অচেনা, অজানা ব্যক্তি সম্পর্কে আমার হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এটি সুস্পষ্টভাবে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। একটি মহল আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। কিন্তু তারা ব্যর্থ হবে, ইনশাল্লাহ। ভোলা-২ আসনের জনগণ সবসময় আমার পাশে ছিল, এখনও আছে।”
হাফিজ ইব্রাহিম অতীতের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ওয়ান-ইলেভেনের সময় আমি দুই বছর কারাবরণ করেছি। সেসব সময়ের দায়ের করা সকল মামলায় আদালত থেকে আমি খালাস পেয়েছি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি প্রার্থী হয়েছিলাম, কিন্তু তৎকালীন নির্বাচন কমিশন আমাকে প্রচারণা চালাতে দেয়নি। সেই সময়ের নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা এখন তার কর্মফলের ভোগ করছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অপশক্তি বিএনপির জনপ্রিয় নেতাদের টার্গেট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। পতিত সরকারের মদদপুষ্ট একটি চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে।”
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমি অতীতেও জনগণের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। জনগণের ভালোবাসাই আমার শক্তি। ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হবে না, কারণ ভোলা-২ আসনের জনগণ সজাগ আছে।”
Leave a Reply