
আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার একমাত্র মহিলা কলেজ “গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজ”। এ কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে রয়েছে তাঁর নিজের সনদ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর গুরুতর অভিযোগ। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) অভিযান চালিয়েছে।
কলেজ অধ্যক্ষ খোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে ভুয়া শিক্ষা সনদ ও বয়স জালিয়াতি করে অধ্যক্ষ পদে বহাল থাকাসহ অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন অভিযানে অংশ নেওয়া দুদক কর্মকর্তাগণ।
মঙ্গলবার (২৪-০৬-২০২৫)বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে দুদক কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় কলেজের প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখেন দুদক কর্মকর্তাগণ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ খোরশেদ আলী ভূয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ পদে বহাল রয়েছেন।এছাড়া মিথ্যা ভাউচার ও অন্যান্য নানা অপকৌশলে কলেজ ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করতে কলেজে যান দুদকের ঐ টিম। অভিযান চলাকালীন সময়ে অধ্যক্ষ খোরশেদ আলী কলেজে অনুপস্থিত থাকলেও ওই সময় কলেজে বিশাল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত শিক্ষক- কর্মচারীর অনেকে দুদক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন বলে জানান তাঁরা।
দুদকের সহকারি পরিচালক বুলবুল আহমেদ বলেন,”আমরা কমিশনের আদেশে অত্র কলেজে এনফোর্সমেন্ট অভিযানের নিমিত্তে অভিযান পরিচালনা করেছি।”
তিনি আরো বলেন,”কলেজ মার্কেটের দোকানের সিকিউরিটির অর্থ,দোকান ভাড়া এবং পুকুর লিজের অর্থ, প্রজেক্টর আত্মসাৎ, কলেজ অভ্যন্তরীণ পুরাতন রাস্তার পুরাতন ইট বিক্রয় এর অর্থ, ছাত্রীদের মাঝে এডমিট কার্ড, প্রশংসাপত্র বিতরণের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ রয়েছে। অধ্যক্ষ ছুটিতে থাকায় তাঁকে কলেজে পাই নি।তবে আমরা সমস্ত কাগজপত্র চেয়েছি যেগুলো তিনি তাৎক্ষণিক দিতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে অর্থ আত্মসাৎ এর সত্যতা মিলেছে। পরবর্তীতে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ খোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ইতিপূর্বেও স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকায় সিরিজ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল :-(১)গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ, দৈনিক মাথাভাঙ্গাতারিখ:- ১৭-০৮-২০০৭,(২) গাংনী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের দুর্নীতি,দৈনিক সংবাদ, তারিখ-২৪-০৮-২০০৭,(৩)গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ! দৈনিক প্রথম আলো তাং-০২-০৯-২০০৭, (৪)গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ খোরশেদ আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ,দৈনিক দেশ তথ্য, তাং-০৬-০৯-২০০৭, (৫) গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ,দৈনিক ইত্তেফাক,তাং-১৯-০৯-২০০৭, (৬)গাংনী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের দুর্নীতির পূনঃতদন্ত শুরু, দৈনিক আরশিনগর, তাং-২৪-০৯-২০০৮,(৭) গাংনী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ খোরশেদ আলীর চরমপন্থী কানেকশন,দৈনিক আরশিনগর, তাং-২৭-০৯-২০০৮,(৮) দুর্নীতির চিত্র-১, গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ খোরশেদ আলীর চরিত্র পাল্টায়নি,তারিখ বোঝা গেল না ও আরো অনেক পত্রিকা। ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত এই সমস্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ২৯-০৯-২০০৭ ইং তারিখে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের জনাব সৈয়দ জাফর আলী, সহকারি শিক্ষা পরিদর্শক এবং মোঃ মমতাজুল করিম অডিটর অত্র মন্ত্রণালয়। তাছাড়া একই দপ্তরের সর্ব জনাব এস এম আমিরুল ইসলাম শিক্ষা পরিদর্শক এবং মোহাম্মদ আব্দুস সবুর শিক্ষা পরিদর্শক, ২৭-০১-২০০৮,২৮-০১-২০০৮ ইং তারিখে দ্বিতীয় দফা তদন্ত করে এই মর্মে মতামত ব্যক্ত করেন যে, “জনাব মোঃ খোরশেদ আলীর অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাম্য অভিজ্ঞতা কোনটাই ছিল না।” এছাড়া সৈয়দ জাফর আলী এবং মমতাজুল করিম মন্তব্যে লেখেন যে,”মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলাধীন গাংনী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনিত দুর্নীতির অভিযোগে ৫৯,৬১৫ টাকা ও ৪৪,৬১৫ টাকা ডিআইএ এর তদন্তে প্রমানিত হয়েছে।(কপি সংযুক্ত)।
এমতাবস্থায় উক্ত বিষয়ে বিধিসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মন্ত্রণালয় কে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল” অডিট রিপোর্ট, তাং০৩-০৬-‘০৮, স্বাক্ষর, মোহাম্মদ হাসান সারওয়ার,সিনিয়র সরকারি সচিব, ফোন নম্বর ৭১৬ -৬৮০১।
তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন গাংনী মহিলা ডিগ্রী কলেজ পরিচালনা পরিষদের শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ বেদারুল আলম,সহকারী অধ্যাপক,অর্থনীতি বিভাগ।
Leave a Reply