
রেশমা চৌধুরী,,,
অসদাচরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আহমেদকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে গত রবিবার থেকে আন্দোলনে নামেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় মঙ্গলবার সকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে বিদ্যালয়জুড়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন এবং তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো বিস্তারিতভাবে শোনেন।
পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধান শিক্ষক জেসমিন আহমেদকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের পর বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি শান্ত হয়।
তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণ, আর্থিক অনিয়মসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তসাপেক্ষ। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এখন সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে একজন প্রধান শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
Leave a Reply